default-image

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় স্থানীয় সাংবাদিক কামাল হোসেনকে (৩০) গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলার মূল আসামি মাহমুদ আলী শাহ এখনো গ্রেপ্তার হননি। তবে পুলিশ বলছে, আসামিদের ধরতে তাঁদের অভিযান অব্যাহত আছে।

এদিকে সাংবাদিক কামাল হোসেনকে নির্যাতন ও দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সুনামগঞ্জে আজ বৃহস্পতিবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট বাজারে দুপুরে সচেতন নাগরিক ফোরামের ব্যানারে এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়। মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে স্থানীয় বাদাঘাট ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সেলিম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমেদ, উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জুলহাস মল্লিক, স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন কবির, বাচ্চু মোল্লা ও মাহবুব মল্লিক অংশ নেন।

গত সোমবার দুপুরে জেলার তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ছবি তুলতে গিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক কামাল হোসেন নির্যাতনের শিকার হন। তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধরের পর একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে আবার নির্যাতন করা হয়। এ সময় তাঁর মোটরসাইকেল, মুঠোফোন ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কামাল হোসেন দৈনিক ‘সংবাদ’ এবং সিলেট থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘শুভ প্রতিদিন’-এর তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার দুপুরে কামাল হোসেন বাদী হয়ে ঘাঘটিয়া গ্রামের মাহমুদ আলী শাহ (৩৮), রইস উদ্দিন (৪০), দীন ইসলাম (৩৫), মুশাহিদ তালুকদার (৪৫) ও মনির উদ্দিনের (৫২) নাম উল্লেখ করে এবং আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি রইস উদ্দিন, ঘাঘটিয়া গ্রামের ফয়সল আহমদ (১৯), আনহারুল ইসলাম (২০), তাহের হোসেন (২০) ও মাসরিবুল ইসলামকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে। তবে ঘটনার মূল হোতা মাহমুদ আলী শাহ এখনো গ্রেপ্তার হননি।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফ তরফদার প্রথম আলোকে বলেছেন, কামাল হোসেনের করা মামলায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যাদুকাটা নদীর তীর কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের তথ্য সংগ্রহ ও ছবি নিতে সোমবার দুপুরে ওই এলাকায় যান কামাল হোসেন। সেখানে ঘাঘটিয়া গ্রামের মাহমুদ আলী শাহসহ কয়েকজন লোক তাঁকে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ওই ব্যক্তিরা পরে তাঁকে ধরে নিয়ে যান পাশের চকবাজারে। সেখানে একটি গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে তাঁকে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে বেলা আড়াইটার দিকে স্থানীয় আরেক সাংবাদিক ও কামাল হোসেনের পরিবারের লোকজন এলাকার বাদাঘাট ফাঁড়ি থেকে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন