default-image

সুনামগঞ্জে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সাড়ে ছয় শ কিলোমিটার সড়কের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়ক ছাড়াও জেলা সদরের সঙ্গে বিভিন্ন উপজেলার যাতায়াতের প্রধান সড়ক রয়েছে। টাকার অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে সড়ক রয়েছে ৬৪০ কিলোমিটার। টাকার অঙ্কে তাদের সড়কের ক্ষতি ৩৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় সেতুর সংযোগ সড়ক, কালভার্ট, হাওর এলাকার গ্রাম প্রতিরক্ষা বেষ্টনী রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের অধীনে থাকা সড়কের মধ্যে প্রায় ২৫ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার অঙ্কে তাদের ক্ষতি ২৫ কোটি।

সুনামগঞ্জ এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে এবং উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢলের তোড়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলার মূল সড়ক ও অভ্যন্তরীণ সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে জেলার তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর এলাকা, জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ সড়কের উজ্জ্বলপুর এলাকা, সুনামগঞ্জ-ছাতক সড়কের নোয়াগাঁও এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। যে কারণে ওই তিন সড়কে সরাসরি যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া জেলার সদর, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও ছাতক উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ঢলের পানিতে বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভেঙে গেছে। সড়কের পিচ, খোয়া উঠে যাওয়ায় যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সওজের সুনামগঞ্জ কার্যালয় থেকে জানা গেছে, তাদের অধীনে থাকা পাঁচটি সড়কের ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অংশগুলোর তাৎক্ষণিক সংস্কারকাজ করা হয়েছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রণজিৎ চৌধুরী জানান, তাঁর এলাকার মূল সড়ক হচ্ছে নিয়ামতপুর-আনোয়ারপুর সড়ক। এই সড়ক দিয়ে তাঁর ইউনিয়নের মানুষ জেলা সদর ও তাহিরপুর উপজেলায় যাতায়াত করে। ১২ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই পুরো সড়কই বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে পাথর বেরিয়ে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। রণজিৎ চৌধুরী বলেন, সড়কটি এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার হয়নি; এ কারণে বন্যায় ক্ষতি হয়েছে বেশি। এখন দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।

default-image

দোয়ারাবাজার উপজেলা মান্নারগাঁও ইউপির চেয়ারম্যান আবু হেনা আজিজ বলেন, সুনামগঞ্জ-দোয়ারাবাজার সড়কের নোয়াগাঁও এলাকায় সড়কের বেশ কিছু অংশ পানির তোড়ে পুরোপুরি ভেঙে গেছে। এখন ওই স্থান দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ভাঙন এলাকার পাশে একটি বড় খাদ রয়েছে। তাই এখানে নতুন করে কাজ করা কঠিন হবে। একই উপজেলার লক্ষীপুর ইউপির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘পাহাড়ি ঢল নেমে প্রথমে তাঁর ইউনিয়নে আঘাত হানে। এবারের বন্যা ও ঢলে ইউনিয়নের প্রায় সবগুলো সড়কই কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী জানিয়েছেন, তাঁর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ঢলের পানিতে সড়কের ক্ষতি হয়েছে বেশি। অনেক জায়গায় সড়ক ভেঙে গেছে। প্রায় এক মাস ধরে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে জেলা সদরের সঙ্গে। এতে মানুষজন চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা বলেছে বন্যার পর কাজ শুরু করবে।’

সওজের সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের কিছু কিছু এলাকায় জরুরি সংস্কারকাজ করছেন। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্ত সব স্থানেই কাজ হবে।

এলজিইডির সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম বলেছেন, ‘বন্যায় আমাদের সড়কগুলোর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেশি। এখনো গ্রামীণ অনেক সড়কে বন্যার পানি রয়েছে। তাই ক্ষয়ক্ষতি চূড়ান্ত করা হয়নি। প্রাথমিকভাবে আমরা একটা প্রতিবেদন দিয়েছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কারের কাজ শুরু হবে।’

সুনামগঞ্জে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ বলেন, তিনি ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি সড়ক পরিদর্শন করেছেন। মানুষের ভোগান্তি কমাতে এসব সড়কের সংস্কার কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0