বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আলা উদ্দিন জানান, তিনি গত মাসে বিল দিয়েছেন ১০৭ টাকা। এবার তিনি বিলের যে কাগজ পেয়েছেন তাতে উল্লেখ করা হয়েছে ১ হাজার ১৪৪ টাকা। একইভাবে অস্বাভাবিক বিল পেয়েছেন গ্রামের আরেক বাসিন্দা কবির হোসেন। গত মাসে তিনি বিল দিয়েছেন মাত্র ৯৯ টাকা, এ মাসে তাঁর বিল এসে ১ হাজার ৪০০ টাকা। শ্রমিক গফুর মিয়ার গত মাসে বিল ছিল ১২৮ টাকা, এ মাসে বিল এসেছে ৮৬৩ টাকা।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, তাঁদের গ্রামে পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৭০০ গ্রাহক আছেন। ২০১৭ সাল থেকে তাঁরা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন। কিন্তু এভাবে কখনো বিল আসেনি। এ মাসের বিল পেয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। গ্রামের বাসিন্দা রহমত আলীর বিলে উল্লেখ করা হয়েছে ১৩ সেপ্টেম্বর। তিনি ৯০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছেন। অথচ ২৪ সেপ্টেম্বর দেখা গেছে তাঁর মিটারে বিদ্যুৎ ব্যবহার ৮০০ ইউনিটের নিচে রয়েছে।
সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুজ্জামান বলেন, ‘আমি আগস্ট মাসে ৪২ টাকা বিল দিয়েছি। চলতি মাসে আমাকে বিল দেওয়া হয়েছে ৬৮৫ টাকা। আমি তো বাড়তি কোনো বিদ্যুৎ ব্যবহার করিনি। তাহলে এই বিল কীভাবে দেওয়া হলো।’

গ্রামের ব্যবসায়ী আশরাফ আহমদ বলেন, ‘আমরা এই অস্বাভাবিক বিলের বিষয়টি নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছিলাম। আমাদের বলা হয়েছে বন্যার কারণে নাকি মিটার রিডার ওই এলাকায় যেতে পারেননি। তাই পুরোনো বিলের সঙ্গে সমন্বয় করে চলতি মাসের বিল দেওয়া হয়েছে। আশরাফ আহমদ বলেন, ‘আমরা এই অস্বাভাবিক বিল দেব না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেব।’
গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য সাজিয়া আক্তার বলেন, গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষক ও শ্রমিক। তাঁরা এত টাকা বিল দিতে পারবেন না। মিটার রিডাররা না এসেই আন্দাজে বিল দিয়ে দেন। এখন বলা হচ্ছে চলতি মাসের বিল দিয়ে দেওয়ার জন্য। পরবর্তী মাসে নাকি ঠিক করে দেওয়া হবে।

পল্লী বিদ্যুতের স্থানীয় মঙ্গলকাটা অভিযোগ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর বলেন, ‘সৈয়দপুর গ্রামের বিলের বিষয়টি কেউ কেউ আমাদের জানিয়েছেন। জেলা কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। মিটার রিডারের কোনো গাফিলতি আছে কি না, সেটিও দেখা হবে।’

জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক সুজিত কুমার বিশ্বাস আজ সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘গরমে বিদ্যুৎ বেশি ব্যবহার হচ্ছে। এ কারণে বিল বেশি আসতে পারে। তারপরও আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব, মিটারে ব্যবহৃত ইউনিটের সঙ্গে বিলের মিল আছে কি না। যদি মিল থাকে তাহলে আমাদের করার কিছু নেই। বিল দিতে হবে। আর যদি মিল না থাকে তাহলে আমরা বিল সংশোধনের ব্যবস্থা করব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন