বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বরাদ্দের আগে সুনির্দিষ্ট খাত উল্লেখ আছে কি না, তা দেখতে হবে। খাত উল্লেখ না থাকলে দুর্নীতির সুযোগ থেকে যায়।

বান্দরবানে এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। ছয় বছর আগে বান্দরবান পৌরসভা, নীলাচল পর্যটনকেন্দ্র ও লামা পৌরসভায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্প গ্রহণে অদক্ষতার পরিচয় দেওয়ায় এগুলো শেষ পর্যন্ত কোনো কাজে আসেনি। তিনটি প্রকল্প এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কিন্তু সে ব্যর্থতা থেকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর শিক্ষা নেয়নি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রকল্পে তিন উপজেলা সদরে পানি সরবরাহের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পে আলীকদম ছাড়া অন্য দুই উপজেলার নাম নেই। প্রকল্পে খাতভিত্তিক ব্যয় বরাদ্দে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। প্রকল্পের আওতায় ২৯ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পৌরসভা ও উপজেলা সদরে কোথায় কত কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হবে, তা উল্লেখ করা হয়নি।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা বলছেন, পৌরসভা ও আলীকদম ছাড়া থানচিতে ১২ কোটি টাকা ও নাইক্ষ্যংছড়িতে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি সরবরাহ করা হবে। কিন্তু প্রস্তাবে তা নেই। তবে প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণকাজ কবে শুরু ও শেষ হবে, তা বলা যাচ্ছে না। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরির আগে কোথায় কী অবকাঠামো দরকার, নকশা তৈরি এবং কাজের কোন অংশের একক ব্যয় সম্পর্কে সম্ভাব্যতা যাচাই ও মূল্যায়ন করা হয়নি।

সহকারী প্রকৌশলী ও প্রাক্কলক খোরশেদ আলম বলেন, অবকাঠামো নির্মাণের স্থান ও প্রাক্কলন নির্ধারণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করা হবে।

প্রকল্প প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পুরো প্রকল্পে অনির্ধারিত ব্যয় ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, প্রশিক্ষণ আয়োজনে সাড়ে ২৫ লাখ, সম্মানী ও পণ্য পরিষেবা খাতে সোয়া ৩৩ লাখ এবং বিশেষজ্ঞ পরামর্শক সংস্থার জন্য ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। কিন্তু কী প্রশিক্ষণ হবে, কাদের জন্য সম্মানী এবং অনির্ধারিত ব্যয়ে সম্ভাব্য খাত সম্পর্কে কোনো কিছুর উল্লেখ নেই। শুধু পাম্প ক্রয়, বুস্টার পাম্পহাউস ও ভূগর্ভস্থ দেয়াল নির্মাণ, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও বাঁধ স্থাপনের কথা বলা হয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় জেলা ও উপজেলা সদরে পানি সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ১৫টি গণশৌচাগার নির্মাণ করা হবে। কিন্তু এসব কাজে কোথায় কী অবকাঠামো হবে, তার স্থান নির্ধারণ, নকশা তৈরি ও কাজের অংশবিশেষে ব্যয় বিভাজনের কোনো কিছুই প্রকল্পে উল্লেখ করা হয়নি।

জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বান্দরবানের নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মিষ্ঠা আচার্য প্রথম আলোকে বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে সম্ভাব্যতা যাচাই ও মূল্যায়নের কাজ শুরু করা যায়নি। নির্ধারিত প্রকল্পের কাজ শেষ না হলে মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করা হবে। তিনি দাবি করেছেন, ইতিমধ্যে জেলা শহরে ও আলীকদমে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছে।

বান্দরবান পৌরসভায় বিদ্যমান সরবরাহব্যবস্থার সংস্কার বা নতুনভাবে নির্মাণের বিষয়ে প্রকল্পে কোনো কিছু বলা হয়নি। আলীকদম উপজেলা সদরে পানি সরবরাহব্যবস্থা উন্নয়নে ২০১১ সালে ২ কোটি ১৫ লাখ টাকায় একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দুই পরিশোধনাগারের অর্ধেক কাজ হওয়ার পর আর কিছু হয়নি। ১০ বছর ধরে তা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এখন ওই প্রকল্পের জন্য ৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, আলীকদমের থানারপাড়ার একটি টিলায় অর্ধনির্মিত দুটি পুরোনো পরিশোধনাগার পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। সম্প্রতি পাইপলাইন বসানো হয়েছে।

আলীকদম উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম প্রথম আলোকে, ডিপিএইচইর পানি সরবরাহের আশা তিনি ছেড়ে দিয়েছেন। এ কারণে তীব্র পানির সংকট কিছুটা হলেও লাঘবের জন্য নিজ উদ্যোগে গভীর নলকূপ বসিয়ে পানি সরবরাহের চেষ্টা করছেন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প সম্পর্কে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (আইইবি) চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, প্রকল্প নেওয়ার আগে যথাযথভাবে সমীক্ষা করতে হবে এবং কী কী কাজ ও ব্যয়, তা সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলে পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের কাজ ঘিরে দুর্নীতির সুযোগ থেকে যায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন