বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত ২৯ অক্টোবর রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের প্রধান ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে এ মারামারির ঘটনা ঘটে। এ সময় তিন ছাত্র আহত হন। তাঁরা হলেন সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী মাহফুজুল হক, নাইমুল ইসলাম এবং আকিব হোসেন। এর জের ধরে ৩০ অক্টোবর সকালে ক্যাম্পাসের সামনের রাস্তায় উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর অনুসারীদের সমর্থক মাহাদি জে আকিবের ওপর হামলা হয়। মাথায় আঘাত পেয়ে মাহাদি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ২১ দিন চিকিৎসা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার কুমিল্লার বাড়িতে ফিরেছেন। ওই ঘটনার পর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে কলেজ।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটির সদস্যরা আহত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে অনেক প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য দিতে আসেননি। আহত ব্যক্তিরা তাঁদের বক্তব্যে ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষের নাম উল্লেখ করেছেন। এ নামগুলো ঘটনার পর নগরের পাঁচলাইশ ও চকবাজার থানায় হওয়া মামলাগুলোর এজাহারেও রয়েছে। কিন্তু তদন্ত কমিটি দায়ী কারা, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কী হবে, এ নিয়ে কোনো মন্তব্য বা সুপারিশ করেনি। অথচ তদন্ত কমিটির ওপর দায়িত্ব ছিল ঘটনার কারণ ও দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করা।

জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য ও প্রধান ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক সহকারী অধ্যাপক রিজোয়ান রেহান প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেকে ভয়ে কমিটির সামনে বক্তব্য দিতে আসেনি। আর ক্যাম্পাস বন্ধ ছিল। আমরা কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছি। বাকিটা থানা-পুলিশ করবে। যেহেতু থানায় মামলা হয়েছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিটির এক সদস্য জানান, তাঁরা ক্যাম্পাসের বর্তমান বিবদমান পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন। পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে একাডেমিক কাউন্সিল বসে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে।

তদন্ত প্রতিবেদনটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর একাডেমিক কাউন্সিলের সভা আহ্বান করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় কলেজে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

কলেজ অধ্যক্ষ সাহেনা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছে। সিলগালা করা অবস্থায় এ প্রতিবেদন কাল (আজ) একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় খোলা হবে। সেখানে কলেজ খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

দুই বছরে মারামারির ঘটনায় তিনটি কমিটি হয়েছে বলে কলেজ সূত্রে জানা গেছে। কিন্তু এখনো কোনো কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসেনি। কারও বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

শিক্ষকদের পক্ষে ছাত্ররাজনীতি সংশ্লিষ্ট সংঘাতগুলোর তদন্ত করা কঠিন বলে মন্তব্য করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, কাউকে চিহ্নিত করে কোনো কঠোর ব্যবস্থার কথা যদি করে থাকেন, তাহলে ওই কমিটির সদস্যরা হুমকিতে থাকতে পারেন, যার জন্য এটা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতাদের সংঘাত বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন