বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে নতুন করে সংস্কার ছাড়া সেখানে অনুষ্ঠান আয়োজনের উপায় নেই। অথচ বড়বাজারের বাসিন্দারা যাতে মিলনায়তনটিতে সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারেন, সে জন্য ঢাকা জেলা পরিষদ এটি তৈরি করেছে। ২০১১ সালে মিলনায়তনটির নির্মাণ শুরু হয়। কাজ শেষ করতে লেগে যায় ২০১৬ সাল পর্যন্ত। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় আরও তিন বছর পর, ২০১৯ সালের অক্টোবরে। ইজারা দেওয়া হয় গত মার্চে। আর ঠিকাদার ইজারা বুঝে নেয় মাসখানেক আগে। সব মিলিয়ে নির্মাণ ও ইজারা দিতে লেগেছে ১১ বছর।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম ২০১৯ সালের অক্টোবরে মিলনায়তনটি উদ্বোধন করলেও ইজারা দেওয়া হয়নি। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে মিলনায়তনটি বন্ধ ছিল। বন্ধ থাকার সময় মিলনায়তনটির কোনো পরিচর্যা করা হয়নি। পাশাপাশি নির্মাণত্রুটি এ অবস্থার একটি কারণ।

ইজারাদার নুর-নাজ-নোহা অ্যাসোসিয়েটসের মালিক ঢাকা উত্তর সিটির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মুজিব সারোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা একপ্রকার পরিত্যক্ত স্থাপনা ইজারা পেয়েছি। নিজেরা যতটুকু পারছি ঠিকঠাক করে ভাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছি।’

সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনভেনশন সেন্টারটি গাবতলী থেকে দিয়াবাড়ি যেতে বেড়িবাঁধ সড়কের পাশে অবস্থিত। এর উল্টোদিকে তুরাগ নদ। সরেজমিনে ১৫ সেপ্টেম্বর গিয়ে দেখা যায়, মিলনায়তনের ওপর খোলামেলা ছাদের পুরোটাই টাইলস করা। সাধারণত ছাদের মাঝখানের অংশ একটু উঁচু করে তৈরি করা হয়, যাতে পানি না জমে। তবে এই মিলনায়তনের ছাদে পানি জমে থাকে।

* মিলনায়তনটি পুরোদমে এখনো চালু হয়নি। নতুন করে মেরামতের উদ্যোগ। * পাঠাগারে বই নেই। চেয়ার-টেবিল ও আলমারি আছে।

গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় গিয়ে দেখা গেল, জায়গাটি টালির টাইলস বসানো। তবে কয়েকটি স্থানে টাইলস ভেঙে মাটি দেবে গেছে, তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। জেলা পরিষদ থেকে নিয়োগ দেওয়া তত্ত্বাবধায়ক সেলিম মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, পার্কিং এলাকার বৃষ্টির পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। এ কারণে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।

ইজারা নেওয়া প্রতিষ্ঠানটি বলছে, জেলা পরিষদের কাছে সমস্যার বিষয়গুলো লিখিত জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, ইজারাদারের কাছ থেকে লিখিত কোনো আবেদন তাঁরা পাননি। অবশ্য মিলনায়তনটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা জেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী আবদুস সামাদ পত্তনদার প্রথম আলোকে বলেন, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকার কারণেই সমস্যাগুলো হয়েছে। তবে নির্মাণকাজ করা শ্রমিকেরা দক্ষ ছিলেন না। ফলে ছাদে বৃষ্টির পানি জমছে। তিনি বলেন, এখন আবার টাইলস উঠিয়ে ছাদ সংস্কার করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর মিলনায়তন চালু করতে এত দেরি হয়েছে যে ঠিকাদারের কোনো গাফিলতি থাকলেও তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ আর নেই।

বড় বাজারের বাসিন্দা ব্যবসায়ী রায়হান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘মিলনায়তনটি দীর্ঘদিন ফেলে রাখা হয়। জনগণ কোনো সুবিধা পাওয়ার আগেই এখন আবার শুনছি মেরামত করতে হবে।’

এদিকে মিলনায়তনটিতে পাঠাগার থাকার কথা ছিল। তবে তার জন্য নির্ধারিত স্থান ফাঁকা পড়ে আছে। কোনো বই নেই। তবে চেয়ার-টেবিল ও আলমারি আছে।

ইজারামূল দিনে ১,৮০০ টাকা

মিলনায়তনটি তিন বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকায়। এতে প্রতি দিনের ইজারামূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ টাকা। স্থানীয় একই মানের বেসরকারি মিলনায়তনের ভাড়া একটি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৩০ হাজার টাকার মতো।

ইজারাদার মুজিব সারোয়ার দাবি করেন, তিনি এখনো চূড়ান্তভাবে ভাড়া নির্ধারণ করেননি। তবে আশপাশের কমিউনিটি সেন্টারগুলোর মতো দৈনিক ৩০ হাজার টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম কনভেনশন সেন্টারটি এত কম টাকায় ইজারা দেওয়ার কারণ কী জানতে চাইলে ঢাকা জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী আবদুস সামাদ প্রথম আলোকে বলেন, দুই দফায় ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। তাই তৃতীয়বার দরপত্র ডেকে ইজারা দেওয়া হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন