যশোরের কেশবপুর পৌরসভার বায়সা এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের বড় মেয়ে ইমামা। অভাব নিত্যসঙ্গী হলেও প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তির জোরে লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন তিনি। এসএসসিতে জিপিএ-৫ ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া ইমামা এবার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ইমামার ইচ্ছা ছিল প্রকৌশলী হওয়ায়। তবে শেষ পর্যন্ত মা মনোয়ারা বেগমের ইচ্ছায় মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে সাফল্য পেয়েছেন।

ইমামার বাবা রফিকুল ইসলাম কেশবপুর হাসপাতাল সড়কের একটি দোকানে প্রতিদিনের হাজিরা হিসেবে একটি কাজ করেন। তিনি বলেন, যে আয় তা দিয়ে স্বামী-স্ত্রী, ৭ মেয়ে, ১ ছেলেসহ ১০ জনের সংসার চলে। মাথা গোঁজার মতো টিনশেডের একটি ঘর আছে। এ ঘরের ভেতরে ছয় ছেলেমেয়ে থাকে। তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে বারান্দায় ঘুমান। মাসে এক দিন মাছ রান্না হয়। যে দিন ডিম হয়, প্রতি চারজনের জন্য একটি ডিম বরাদ্দ হয়।

ইমামার মা মনোয়ারা বেগম জানান, কারও সাহায্য ছাড়া এখন আর তাঁর মেয়ে সামনের পথটুকু পাড়ি দিতে পারবেন না। ইমামা ভালো চিকিৎসক হতে চান। ইমামা বলেন, ‘একবার যদি ভর্তি হতে পারি, তাহলে পড়ালেখাটা চালিয়ে যাব যেকোনো মূল্যে। গরিবের ডাক্তার হতে চাই।’