default-image

সুরমা নদীতে পানি বাড়ায় নৌপথে আনা হচ্ছিল বোল্ডার পাথর। এসব পাথর নদীতীরে স্তূপ করে রেখে রাতারাতি পাথর ভাঙার কয়েকটি কল (স্টোন ক্র্যাশার মিল) স্থাপন করে চলছিল উন্মুক্ত স্থানে পাথর ভাঙার কাজ। নীতিমালা অনুযায়ী নদীতীরে স্থাপিত কলগুলো ছিল অবৈধ। আর নদীতীরও ব্যবহার করা হচ্ছিল অবৈধভাবে।

আজ সোমবার পরিবেশ অধিদপ্তর ও সিলেট জেলা প্রশাসন যৌথ অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ১২ লাখ টাকা মূল্যের ২৩টি পাথর ভাঙার কল বিকল এবং পাথর ভাঙার কাজে নদীতীর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। এ সময় পাথর পরিবহনে ব্যবহৃত দুটো বাল্কহেড (নৌযান) ও ১ লাখ ৩০ হাজার ঘনফুট পাথর জব্দ করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক মোহাম্মদ এমরান হোসেন ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেজবাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়।

সুরমা নদীতীরের দক্ষিণ সুরমার আলমপুর থেকে ফেরিঘাট, কুচাই, মিরেরচক ও মুক্তির চক এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একটি দলসহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেজবাহ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বেলা একটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলা টানা তিন ঘণ্টা অভিযানে চালু অবস্থায় ছোট-বড় ২৩টি স্টোন ক্র্যাশার মিল বিকল করে দিয়ে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ১ কোটি ১২ লাখ টাকার অবৈধ যন্ত্রাংশ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। জব্দ করা ১ লাখ ৩০ হাজার ঘনফুট পাথর উন্মুক্ত নিলাম ডেকে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পাথর ভাঙার কল স্থাপনে ‘স্টোন ক্র্যাশার মেশিন স্থাপন নীতিমালা-২০০৬’ নামের একটি নীতিমালা রয়েছে। এতে উল্লেখ রয়েছে, শহর, উপজেলা সদর, পৌরসভা এলাকায় স্টোন ক্র্যাশার মেশিন স্থাপন করা যাবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বসতবাড়ি, প্রধান সড়ক ও মহাসড়কের ৫০০ মিটারের মধ্যে ও কৃষিভূমি বা বন বিভাগের ভূমিতে স্টোন ক্র্যাশার মেশিন স্থাপন ও পরিচালনা করা যাবে না। কিন্তু তা উপেক্ষা করে সিলেট সদর উপজেলার ধোপাগুল, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটে সহস্রাধিক পাথর ভাঙার কল স্থাপন করা হয়েছে।

যত্রতত্র স্থাপন করা পাথর ভাঙার কলের গুঁড়ো জনজীবন ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলায় বাংলাদেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) একটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত পাথর ভাঙার কল পরিচালনার জন্য একটি ‘জোন’ করার নির্দেশনা দেন। জেলা প্রশাসন নীতিমালার আলোকে পাথর ভাঙার কলগুলো একটি অঞ্চলভুক্ত (জোন) করে পরিচালনার জন্য গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল এলাকায় ১৩৩ একর জায়গাকে ‘স্টোন ক্র্যাশার জোন’ করার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুস সাকিব বলেন, ওই প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন