default-image

পাহাড়ি ঢলে সিলেটের চারটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। নদ–নদীর পানি বাড়ছে। সুরমা নদীর সিলেট অংশে পানি বাড়ায় নদীর তীর উপচে নগরে ঢুকছে পানি। রোববার সকালে নদীতীরের দুই শতাধিক মহল্লা প্লাবিত হয়েছে। নদীতীরের কুশিঘাট, কালীঘাট, তালতলা, ঘাসিটুলা, মির্জাজাঙ্গল, শাহজালাল উপশহরে রাস্তা ও ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। সুরমা নদীর সঙ্গে মিলিত হওয়া ছড়া ও খালের পানি উপচে কোনো কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতা প্রকট হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নগরের নিচু এলাকার বাসিন্দাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সিলেটের প্রধান নদী সুরমা, কুশিয়ারা, সারী নদীসহ সীমান্তবর্তী ডাউকী, ধলাই ও পিয়াই নদে পাহাড়ি ঢল নামা অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, সুরমা নদীর কানাইঘাট অংশ দিয়ে পানি বিপৎসীমার ১২ দশমিক ৭৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রোববার বিকেল চারটার দিকে সেখানে ১৩ দশমিক ৫৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। সীমান্ত থেকে নেমে আসা সারী নদীর পানিও বিপৎসীমার ১২ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিকেল ৪টায় সেখানকার পানি ১২ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

সিলেট শহরের কাছে সুরমার পানি বিপৎসীমার ১০ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার ছুঁই ছুঁই করছে। বিকেল ৪টায় ১০ দশমিক ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নদ–নদী অববাহিকা এলাকার গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। সালুটিকর হয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

দুই উপজেলার প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার দুটো আশ্রয়কেন্দ্রে গতকাল থেকে কিছু পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া পরিবার ছাড়াও পানিবন্দী লোকজনকে শুকনা খাবার বিতরণ করছে উপজেলা প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন