বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পৌর শহরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মেয়র প্রার্থী আবু নাছের অভিযোগ করেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাঁকে মনোনয়ন প্রত্যাহারসহ নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে যেতে নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করেছেন। তাঁর বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
আবু নাছের বলেন, নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টা আগে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাতে এবং কেন্দ্র দখল করতে সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থী বহিরাগত শত শত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আনার প্রস্তুতি নিয়েছেন। ইতিমধ্যে ভোট ডাকাতি ও কেন্দ্র দখলের জন্য উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের পৌরসভার নয়টি কেন্দ্রের দায়িত্ব দিয়ে কেন্দ্র কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আবু নাছের আরও বলেন, ভোটের দিন অনেক সন্ত্রাসীকেও সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণের কার্ড দিয়ে নৌকার প্রার্থী কেন্দ্র দখলসহ ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করবেন। তিনি প্রশাসনের প্রতি ভোটারদের কেন্দ্রে আসার নিশ্চয়তা, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা, নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টিসহ সংঘাতবিহীন একটি নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।

২০ সেপ্টেম্বর সোনাগাজী পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন, সাধারণ ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২৩ জন এবং সংরক্ষিত ২টি ওয়ার্ডে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, ২০ সেপ্টেম্বর সোনাগাজী পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন, সাধারণ ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২৩ জন এবং সংরক্ষিত ২টি ওয়ার্ডে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সংরক্ষিত ২ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিল পদে তাছলিমা আক্তার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
মেয়র পদে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত প্রার্থী বর্তমান মেয়র রফিকুল ইসলাম (নৌকা), ইসলামী আন্দোলনের হাফেজ মো. হিজবুল্লাহ (হাতপাখা), আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সেলিম (জগ) এবং আবু নাছের (স্বতন্ত্র) মোবাইল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়র প্রার্থী আবু নাছের পৌরসভার সব কটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি প্রতিটি কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েনের দাবি করেছেন। তিনি তাঁর কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তাও চেয়েছেন।

স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু নাছেরকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য চাপ সৃষ্টি ও তাঁর বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র রফিকুল ইসলাম বলেন, সংবাদ সম্মেলনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আবু নাছের সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশকে অশান্ত করার জন্য মিথ্যা বানোয়াট কথা বলেছেন।

আওয়ামী লীগের মেয়র পদপ্রার্থী আরও বলেন, তাঁর লোকজন এখন পর্যন্ত আগ বাড়িয়ে কোনো কিছুই করেননি। নির্বাচনে তাঁর পক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট চাইছেন। তিনি কোনো বহিরাগত সন্ত্রাসী এবং কাউকে কেন্দ্র দখলের দায়িত্ব দেননি। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আশা করছেন।

উপজেলা নির্বাচন ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মাইনুল হক বলেন, মেয়র প্রার্থী আবু নাছের নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে কমিশন ও প্রশাসনের কাছে একাধিক চিঠি দিয়েছেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন থেকে কঠোর নির্দেশ আছে, ভোট নিরপেক্ষ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হতে হবে। কোনো রকমের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। তাঁরা ইভিএমের মাধ্যমে শতভাগ নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন