বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সকাল সাড়ে ছয়টার আগেই ছয় শতাধিক অংশগ্রহণকারী নারী-পুরুষ মেয়র চত্বরে জড়ো হন। তাঁরা এসেছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। মেয়র চত্বরে তখন উৎসবের উচ্ছ্বাস। অনেক দিন পর অনেকের দেখা। প্রায় দুই বছর আগে একসঙ্গে এ রকম দৌড়ের একটা উৎসব-আনন্দ দিন কাটিয়েছিলেন তাঁদের অনেকে। মাঝখানে করোনাভাইরাস সংক্রমণে স্থবির ছিল পুরো জীবনযাত্রাই। সেই স্থবিরতা ভেঙেছে আজকের দৌড়কে কেন্দ্র করে।

হাফ ম্যারাথনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা রহমান, কবি-সংগঠক সৈয়দ মোসাহিদ আহমদ, বেঙ্গল কনভেশন হলের পরিচালক সৈয়দ মুনিম আহমদ প্রমুখ।

default-image

সকাল সাড়ে ছয়টায় দৌড়ের বাঁশি বাজে। দুটি বিভাগে হাফ ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়। একটি ২১ কিলোমিটার এবং অন্যটি ১০ কিলোমিটারের। দৌড় শুরু হয় মেয়র চত্বর থেকে। ২১ কিলোমিটারের দৌড়বিদেরা মেয়র চত্বর থেকে কোর্ট রোড, বর্ষিজুরা ইকোপার্ক সড়ক, কালেঙ্গা সড়ক, কালেঙ্গা বাজার, দেওরাছড়া চা-বাগান হয়ে কমলগঞ্জের ছয়ছিরি দিঘি পর্যন্ত গেছেন। সেখান থেকে ফিরে এসেছেন মৌলভীবাজার স্টেডিয়ামে। ১০ কিলোমিটারের দৌড়ও হয়েছে একই সড়ক ধরে দেওরাছড়া চা-বাগানের একাত্তরের বধ্যভূমি পর্যন্ত। সেখান থেকে ফিরে এসেছেন মৌলভীবাজার স্টেডিয়ামে।

দৌড়ে ২১ কিলোমিটারে পুরুষ পর্যায়ে প্রথম হয়েছেন খুলনার আসিফ বিশ্বাস এবং নারী পর্যায়ে ঢাকার মৌসুমি আক্তার। ১০ কিলোমিটারে পুরুষ পর্যায়ে প্রথম হয়েছেন রংপুরের সালাদ হোসেন এবং নারী পর্যায়ে মৌলভীবাজারের নাসরিন বেগম। পরে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের হাতে মেডেল তুলে দেওয়া হয়। এবারের মেডেলের থিম ছিল ‘চা-কন্যা’।

ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন চট্টগ্রামের নৃপেন চৌধুরী (৭১)। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ম্যারাথনে অংশ নিয়ে খুব ভালো লেগেছে। খুব উপভোগ করেছি। ২০১৬ থেকে দেশে-বিদেশে ৫৪টি ইভেন্টে অংশ নিয়েছি। আমি মৌলভীবাজার আবার আসতে চাই।’
হাফ ম্যারাথন আয়োজকদের একজন চিকিৎসক সঞ্জীব মীতৈ বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা থেকেও অংশ নিয়েছেন। সুন্দরভাবে ম্যারাথন শেষ করতে পেরে আমাদের ভালো লাগছে। সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতার জন্য দৌড় খুবই উপকারী। আমরা সবার মধ্যে দৌড়ের আগ্রহ সৃষ্টি করতে চাই। পাশাপাশি মৌলভীবাজারের সৌন্দর্যকে দেশ-বিদেশের মানুষের কাছে পরিচিত করে তুলতে চেয়েছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন