default-image

লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল দুই হেক্টরের, সেখানে ২৯ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে সূর্যমুখী। সরকারের দেওয়া প্রণোদনা বীজে সূর্যমুখী চাষ করে এখন লাভের স্বপ্ন দেখছেন চাষিরা। ইতিমধ্যে গাছে ফুল ধরতে শুরু করেছে, কোনো কোনো গাছে কলি এসেছে।

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কুঠিরঘাট এলাকায় এ রকম চিত্র দেখে মন জুড়িয়ে যায়। সেখানে চিকলী নদীর ধারে ও উঁচু জমিতে চাষ করা হয়েছে সূর্যমুখী ফুলের। জমিতে একেকটি ফুল যেন হাসিমুখে সূর্যের আলো ছড়াচ্ছে। চারদিকে হলুদ ফুল আর সবুজ গাছের অপরূপ দৃশ্য। এ সৌন্দর্য দেখতে আশপাশের এলাকা থেকেও ভিড় জমাচ্ছেন অনেকেই। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ২৯ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে সূর্যমুখীর।

কয়েকজন চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলা কৃষি কার্যালয় থেকে বিনা মূল্যে বীজ পেয়ে চলতি বছর তাঁরা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ও মাঠপর্যায়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় তাঁরা এই সূর্যমুখীর চাষ শুরু করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে তাঁরা আশা করছেন ভালো আয় হবে।

বিজ্ঞাপন

সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহিনা বেগম জানান, সৈয়দপুরে এই প্রথম সূর্যমুখীর চাষ শুরু করা হয়েছে। চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে বিনা মূল্যে বীজ দেওয়া হয়েছে। চাষিদের স্বাবলম্বী করতেই সূর্যমুখী ফুল চাষে উৎসাহিত করা হয়েছে। যদি সফল হওয়া যায়, আগামী দিনে চাষ অনেক বাড়বে বলে জানান তিনি। এটি একটি লাভজনক ফসল, খরচও অনেক কম। এ ছাড়া সূর্যমুখী বীজের তেল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী ও সূর্যমুখীর শুকিয়ে যাওয়া গাছ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

তিনি আরও বলেন, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে দুই হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও অর্জিত হয়েছে ২৯ হেক্টর। সরকারের কৃষি প্রণাদনার আওতায় ১৯০ জন চাষিকে সূর্যমুখীর বীজ দেওয়া হয়েছে। চাষিদের উদ্বুদ্ধ করতে ৩০টি প্রদর্শনী খেত তৈরি করা হয়েছে।

সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবু মো. আলেমুল বাসার জানান, সূর্যমুখীর তেল অন্যান্য সাধারণ তেলের চেয়ে একটু আলাদা। কোলেস্টেরলমুক্ত প্রচুর পরিমাণে প্রাণশক্তি থাকায় সূর্যমুখী তেল আমাদের শরীরের দুর্বলতা, কার্যক্ষমতা বাড়ায়। রান্নার জন্য সয়াবিন তেলের চেয়ে এর তেল ১০ গুণ বেশি পুষ্টিসমৃদ্ধ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন