default-image

বগুড়ার সেই অর্থির শিক্ষার জন্য প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র দেওয়া হয়েছে। প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে অর্থির মা আইরিন সুলতানা ও বাবা আকরাম হোসেনের হাতে আজ রোববার এক লাখ টাকা মূল্যের পারিবারিক সঞ্চয়পত্র তুলে দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দু্ই ব্যক্তি শিক্ষাবৃত্তির এই টাকা প্রদান করেন।

এ সময় প্রথম আলোর বগুড়ার নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার পারভেজ, বগুড়া কার্যালয়ের অফিস ব্যবস্থাপক শরিফুল ইসলাম ও ট্রান্সক্রাফটের বগুড়া ছাপাখানা ইনচার্জ নুরুল আলম সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন।

গত ঈদুল আজহার সপ্তাহখানেক আগে দাদা ও বাবার সঙ্গে ‘নবাব’ নামে একটি পোষা গরু বিক্রি করতে হাটে গিয়েছিল ১০ বছরের অর্থি। নিজের খেলার সঙ্গী ‘নবাব’কে বিক্রি করে দেওয়ার পর এটিকে জড়িয়ে ধরে সে হাউমাউ করে কাঁদছিল। ঈদের আগের দিন গত বছরের ৩১ জুলাই প্রথম আলোর প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয় ফটোসাংবাদিক রাফিদ ইয়াসারের তোলা অর্থির কান্নার সেই ছবি।

অর্থি কেন কাঁদছিল’ শিরোনামে সে খবর দেশজুড়ে সাড়া ফেলে। অনেকেই ফোন করে মেয়েটিকে সাহায্য করতে চান। এইচএসবিসি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুবুর রহমানের আর্থিক সহযোগিতায় ঈদের দুই দিনের মাথায় অর্থিকে নতুন গরু কিনে দেওয়া হয়। খুশিতে ডগমগ অর্থি নতুন গরুটার নাম রাখে ‘ছোট নবাব’।

অর্থির লেখাপড়ায় আর্থিক সহায়তার জন্য ওই সময় প্রথম আলো ট্রাস্টের পক্ষ থেকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়ার কথা জানানো হয়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অর্থিকে এক লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনে দেওয়া হয়। অর্থি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁর মা আইরিন সুলতানার নামে পারিবারিক এই সঞ্চয়পত্র কিনে দেওয়া হয়।

আইরিন সুলতানা বলেন, ‘অর্থি আমাদের একমাত্র সন্তান। নবাব ছিল ওর খেলার সঙ্গী, ভালো বন্ধু। সাংসারিক প্রয়োজনে গরুটি বিক্রি করে দিতে হয়েছিল। কিন্তু গরুটা বিক্রির পর বন্ধুকে হারানোর শোকে অর্থি এতটা ভেঙে পড়বে, তা কখনো ভাবিনি। ছোট নবাবকে পেয়ে মেয়েটা বড় নবাবকে ভুলে গেছে।’ আইরিন জানান, ছোট নবাবের সঙ্গেও ইতিমধ্যে ভাব জমেছে মেয়েটার। করোনার কারণে স্কুল ছুটি হওয়ায় পড়াশোনার ফাঁকে ছোট নবাবের সঙ্গেই সময় কাটে অর্থির। বৃত্তির এই এক লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের লাভের অর্থ দিয়ে ওর পড়াশোনার খরচ চালাবেন। ওকে আগামী দিনে ভালো স্কুলে ভর্তি করানোর স্বপ্ন রয়েছে তাঁদের।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন