default-image

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর বাজারে গত ২৬ আগস্ট বিক্রি হওয়া একটি বিদেশি জাতের গাভি নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। সেই গাভির কথিত ক্রেতা ও বিক্রেতার বিরুদ্ধে থানায় বুধবার চুরির মামলা হয়েছে। ঈশ্বরগঞ্জ থানা-পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করেছে।

মধুপুর বাজারের বাসিন্দা মো. তাইজুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি এই বাজার থেকে গাভিটি কিনেছেন। গাভিটি তাঁর কাছে বিক্রি করেন পাশের নাউরী গ্রামের বাসিন্দা আবদুস ছালাম। ছালাম ওই গ্রামের নবী হোসেনের ছেলে। অবশ্য গরু বিক্রেতা ছালামকে ভালোভাবে চেনেন না তিনি।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি জানান, গাভিটি কেনাবেচার পর থেকে এলাকায় নেতিবাচক কথাবার্তা ছড়াতে শুরু করে। কেউ কেউ বলতে শুরু করেন, এটি চোরাই গরু। পরে তিনি (জনপ্রতিনিধি) ঈশ্বরগঞ্জ থানায় খবর দেন। শুক্রবার রাতে পুলিশ এসে খোঁজখবর নিলেও গরুটি তাইজুলের বাসা থেকে উদ্ধার করেনি। বরং একজন গ্রাম পুলিশ সদস্যের জিম্মায় গরুটি তাইজুলের বাড়িতেই রেখে যায় পুলিশ। পুলিশের এই ভূমিকায় মধুপুর বাজারে সমালোচনা শুরু হয়।

ঘটনাটি নিয়ে গত সোমবার ‘দাম নিয়ে বিতর্ক, গরু পাহারায় গ্রাম পুলিশ’ শিরোনামে প্রথম আলোয় সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরে এলাকার লোকজন গাভিটি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া শুরু করেন। এ অবস্থায় গত মঙ্গলবার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গৌরীপুর সার্কেল) শাখের হোসেন সিদ্দিকী মধুপুর বাজারে আসেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে বাজারের একটি সূত্র জানায়, বিক্রেতা ছালাম গরুটি কেনেন রিপন মিয়া নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে। তাঁর পরিচয় বলা হয়, নান্দাইল উপজেলার চরভেলামারী গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে। কিন্তু পুলিশ মঙ্গলবার চরভেলামারী গ্রামে খোঁজ নিয়ে রিপন মিয়া নামের কাউকে পায়নি।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান আকন্দ বলেন, তাইজুল ইসলাম গাভিটি ছালামের কাছ থেকে কেনার কথা বললেও ছালাম যাঁর কাছ থেকে গাভিটি কিনেছেন বলে দাবি করেছিলেন, সেই ব্যক্তির খোঁজ পায়নি পুলিশ। তাই গরুটি জব্দ করে থানায় মামলা করা হয়েছে। এখন আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0