default-image

সিলেটে পুলিশি হেফাজতে রায়হান আহমদ নিহত হওয়ার এক মাস পূর্তিতে বন্দরবাজার ফাঁড়ির সামনে বুধবার ‘আঁধার সরাতে আলোক প্রজ্বালন’ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা নামের নাগরিক মোর্চার উদ্যোগে মোমবাতি জ্বালানো হয়। এতে রায়হানের পরিবারের সদস্যরাও যোগ দেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ফটকে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। এর আগে বিকেল পাঁচটার দিকে সেখানে সংহতি সমাবেশ হয়। নাগরিক মোর্চার সংগঠক দেবাশীষ দেবু সমাবেশ সঞ্চালনা করেন।

বিজ্ঞাপন

সমাবেশে রায়হানের ছোট ভাই রাব্বি আহমদ তানভীর, খালা আমিনা বেগম ও বোন ফাহমিদা আক্তার, রাজনীতিবিদ সিকান্দর আলী, নাগরিক সংগঠনের সংগঠক আবদুল করিম চৌধুরী, মোহাম্মদ আশরাফুল কবির, রাজীব রাসেল প্রমুখ বক্তব্য দেন।

কর্মসূচি চলাকালে রায়হানের ছোট ভাই রাব্বি আহমদ বলেন, ‘এসআই আকবর পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে ভারত চলে গিয়েছিলেন। এত দিন কেটে গেছে, শুধু আকবরের নাগাল পেতেই। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাইতে গিয়ে দেখছি, আকবরকে পালাতে সহায়তা করেছে পুলিশই। তাই আমাদের পরিবারের দাবি, এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হোক। পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থা বদল করে মামলাটি র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হোক।’

আমাদের পরিবারের দাবি, এই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হোক। পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থা বদল করে মামলাটি র‌্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হোক
রাব্বি আহমদ, নিহত রায়হান আহমদের ছোট ভাই

সমাবেশে নাগরিক মোর্চার পক্ষ থেকে বলা হয়, জনতার হাতে আটক হওয়ার পর আকবর বলেছেন, ‘সিনিয়র অফিসারদের পরামর্শে তিনি ভারতে পালিয়েছেন। তাঁর এমন বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আমরাও প্রথম থেকে বলে আসছি, সিলেট মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই আকবর পালিয়েছেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছাড়া সদ্য বহিষ্কৃত কোনো পুলিশ কর্মকর্তার পালানো অসম্ভব। আকবরের জবানিতেও এর সত্যতা পাওয়া গেছে। রায়হানের মৃত্যুর পর মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকেও প্রচার করা হয়েছে, ছিনতাইকালে গণপিটুনিতে মারা গেছেন রায়হান। এই অপপ্রচারে রায়হান হত্যায় পুলিশের ওপরের মহলের অনেক কর্মকর্তাই জড়িত রয়েছেন বলে আমরা মনে করি।’

বিজ্ঞাপন

নিজেদের নাম প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে নগর পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারাই আকবরকে ভারতে পাঠিয়ে দেন, এমন অভিযোগ করে আরও বলা হয়, ‘আমরা মনে করি, কেবল একজন এসআই আকবর বা বন্দরবাজার ফাঁড়ির কয়েকজন পুলিশ সদস্যই নন, রায়হান হত্যাসহ নগরের পুলিশ ফাঁড়িগুলোতে চলা বিভিন্ন অনিয়ম–অত্যাচার ও চাঁদাবাজির সঙ্গে পুলিশের অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও জড়িত। পুলিশকে কলঙ্কমুক্ত ও জনবান্ধব করতে হলে এই চক্রের মূলোৎপাটন করা আবশ্যক। এ জন্য সবার আগে রায়হানকে পালানোর পরামর্শ দেওয়া “সিনিয়র অফিসারদের” খুঁজে বের করতে হবে।’

আয়োজকেরা জানান, গত ২৫ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের ধর্ষণকাণ্ডের সমন্বিত প্রতিবাদ জানাতে সিলেটের শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী ও নাগরিকদের প্ল্যাটফর্ম দুষ্কাল প্রতিরোধে আমরা নামের নাগরিক মোর্চা গঠন হয়। ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান থাকা অবস্থায় গত ১১ অক্টোবর পুলিশি নির্যাতনে রায়হানের মৃত্যু ঘটে। পরে ধর্ষণকাণ্ডের প্রতিবাদী কর্মসূচির সঙ্গে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিবাদে নানা কর্মসূচি পালন হয়। রায়হানকে নির্যাতন ও হত্যার মূল হোতা বন্দরবাজার ফাঁড়ির বরখাস্ত হওয়া দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মন্তব্য পড়ুন 0