বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মোতালেবের চার ছেলে ও দুই মেয়ে। গত বছর ওই বৃদ্ধকে তাঁর ছেলেরা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। পরে বিষয়টি নিয়ে ‘শিক্ষিকা পুত্রবধূর নির্যাতনে ঘরছাড়া বৃদ্ধ শ্বশুর’ এমন শিরোনামে একটি পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হলে পুলিশ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাড়ি ফিরে পান তিনি।

মোতালেব প্রথম আলোকে বলেন, তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত যন্ত্র সংযোজন কারখানা গালফ্রা হাবিবে চাকরি করতেন। অবসরের টাকা দিয়ে তিনি একটি একতলা বাড়ি করেন। কিনেন ১০ শতক কৃষিজমি। গত বছরের অক্টোবরের শেষের দিকে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেন ছেলে ও বউয়েরা। বিষয়টি বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হয়। পরে তৎকালীন সীতাকুণ্ডের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শম্পা রানী সাহা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন রায় ওই বৃদ্ধের বাড়ি গিয়ে তাঁকে ঘরে তুলে দেন। বের হয়ে যায় ছেলেদের পরিবার। পরে স্থানীয় লোকজনের পরামর্শে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তিনি। এরপর তাঁদের ভরণপোষণের জন্য আদালতে মামলা করেন।

আদালত ছেলেদের ভরণপোষণের জন্য তাঁর বাবাকে চার হাজার টাকা করে দিতে নির্দেশ দেন। দুই মাস দেওয়ার পর ছেলেরা টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন। এদিকে কর্মহীন এ বৃদ্ধ অর্থাভাবে পড়ে নিজের কেনা জমির নামজারি করাতে না পেরে জমিগুলো বিক্রি করতে পারছিলেন না।

মোতালেব আরও বলেন, ১ ডিসেম্বর তাঁর সমস্যার কথা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলমকে তিনি জানান। পরে ওই বৃদ্ধকে নামজারি করার আবেদন দিতে বলেন ওই কর্মকর্তা।

সহকারী কমিশনার আশরাফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, কর্মহীন ওই বৃদ্ধ তীব্র অর্থকষ্টে ছিলেন। তাঁর কেনা ১০ শতক জমি বিক্রি করা অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়েছিল। ১ ডিসেম্বর বৃদ্ধের আর্তনাদ দেখে তিনি ওই আবেদন নেন। কিন্তু সরকারি ফি দেওয়ারও টাকা ছিল না তাঁর। পরে তিনি ওই ফি পরিশোধ করে নামজারি প্রক্রিয়া শুরু করেন। নামজারি করতে তিনি সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শাহ আলমকে নির্দেশ দেন। পরে আজ ওই বৃদ্ধের হাতে নামজারির খতিয়ান হাতে তুলে দেন তিনি। খতিয়ান পেয়ে আবেগে কেঁদে দেন ওই বৃদ্ধ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন