default-image

পুলিশ সদস্যকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়া নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার সেই স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মীর হোসেন ওরফে মীরুকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ। আজ রোববার দুপুরে কুতুবপুরের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি দল ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) জাহেদ পারভেজ প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ ১৭টি মামলা ছিল। অধিকাংশই চাঁদাবাজির মামলা। ডিপিডিসির মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
১২ অক্টোবর সদর উপজেলার পাগলায় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশের কনস্টেবল আবদুল মতিনকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন মীর হোসেন। ওই হুমকির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তবে মীর হোসেন নিজেকে কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে সেখানে অনুমোদিত কোনো কমিটি নেই।

বিজ্ঞাপন

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে রিকশার ওপরে বসে মীর হোসেনকে উঁচু গলায় পুলিশ কনস্টেবল মতিনকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি আওয়ামী লীগ করেন? আপনি যুবলীগ করেন? ছাত্রলীগ করেন? আপনি বিএনপি করেন? জাতীয় পার্টি করেন? আপনি পোলাপানরে দৌড়ানি দেবেন কেন?’ ওই পুলিশ সদস্যকে হুমকি দিয়ে মীর হোসেন বলেন, ‘এইগুলা কিন্তু ভালো না। পূর্বের ইতিহাস কিন্তু করাইয়েন না। আপনি কেন এইগুলা করবেন? কেন দৌড়ানি দেবেন?’ এ সময় তাঁর অনুগত নেতা-কর্মীরা জয় বাংলা স্লোগান দেন।
এ বিষয়ে কনস্টেবল মতিন প্রথম আলোকে বলেন, ১২ অক্টোবর পাগলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দায়িত্বে ছিলাম। সেখানে ২০–২৫ জনের অল্প বয়সী একদল কিশোর তাঁকে দেখে দৌড়ে পালিয়ে যান। তাদের (কিশোরদের) কিছু বলেননি দাবি করে তিনি বলেন, এ ঘটনায় মীর হোসেন তাঁর সঙ্গে খারাপ ও অশালীন আচরণ করেন। তাঁকে প্রকাশ্যে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। পরে ওই হুমকি দেওয়ার বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মীর হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ দেড় ডজনের বেশি মামলা রয়েছে। কুতুবপুর এলাকায় তিনি গডফাদার হিসেবে পরিচিত। কয়েক বছর আগে প্রতিপক্ষের সঙ্গে গোলাগুলিতে তাঁর পায়ে গুলি লাগে। পরে তাঁর পা কেটে ফেলতে হয়। কিন্তু পা হারিয়েও তাঁর অপরাধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে।
ওই ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম ডিবি পুলিশকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

বিজ্ঞাপন

তবে অভিযোগের বিষয়ে মীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা মানববন্ধন করতে যাওয়ার সময় আমাদের সঙ্গে ৫০–৬০ জন পোলাপান আসার পথে ডিএসবির কনস্টেবল মতিন তাঁদের রড নিয়ে দৌড়ানি দেন। পোলানরা ফোনে বিষয়টি আমাকে জানান। পরে মতিন আমার কাছে এসে বিষয়টি ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন। তখন আমি তাঁকে কিছু কথা বলেছি।’ কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দাবি বিষয়ে তিনি বলেন, ওই কমিটি আগে হয়েছে। মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার অধিকাংশ মামলায় আমি খালাস পেয়ে গেছি। অন্যগুলোতে জামিনে আছি।’
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ লিটন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সরকারি ও প্রশাসনের লোকের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা আমরা প্রত্যাশা করি না। মীর হোসেন জঘন্য কাজ করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওর আমাদের দলের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। মীর হোসেন নিজেকে সাধারণ সম্পাদক দাবি করলেও সেখানে এখন বৈধ কোনো কমিটি নেই।’

মন্তব্য পড়ুন 0