বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল রাতে অভিনাথ মারানডির স্ত্রী রোজিনা হেমরম গোদাগাড়ী থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গভীর নলকূপের অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। ঘটনার দিন পুলিশ সাদা কাগজে রোজিনার সই নিয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছিল।

পরের দিন শুক্রবার রোজিনা জানতে পারেন, তাঁর স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপ অপারেটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হচ্ছে না। এরপর বিকেলে তিনি গোদাগাড়ী থানায় যান। পুলিশ দীর্ঘ সময় তাঁকে বসিয়ে রাখে। পরে থানায় যান আদিবাসীবিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি রোজিনা হেমরমের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এরপর রাতে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা নেওয়া হয়।

এদিকে থানায় যাওয়ার আগে রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা গোদাগাড়ীর নিমঘটু গ্রামের অভিনাথ মারানডির বাড়িতে যান এবং তাঁর মা সোহাগী সরেনকে সান্ত্বনা দেন। পরে গোদাগাড়ী থানার সামনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ১২ দিন ঘুরেও যখন ফসল রক্ষার জন্য অভিনাথ পানি পাননি, তখন তিনি অপারেটরকে বলেন, পানি না দিলে আমি কিন্তু বিষ খেয়ে মরে যাব। তারপরও অপারেটর বিষয়টি আমলে নেননি। এটা আত্মহত্যার প্ররোচনার মধ্যে পড়ে। সাংসদ পরে থানায় গিয়ে পুলিশকে বলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা রেকর্ড করার সঙ্গে সঙ্গে যেন গভীর নলকূপের অপারেটর সাখাওয়াত হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা অভিযোগ করেছেন, পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়। এ নিপীড়ন গোটা গোদাগাড়ী ও তানোর এলাকার। এ ব্যাপারে তিনি সরকার ও মানবাধিকার কমিশনসহ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেন।

গোদাগাড়ী উপজেলার ঈশ্বরীপুর গভীর নলকূপ থেকে নিমঘটু গ্রামের কৃষকেরা তাঁদের জমিতে পানি নেন। ওই নলকূপের অপারেটর স্থানীয় ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন। মামলা হলেও আজ শনিবার দুপুর পর্যন্ত পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার কোনো বিরোধ নেই। আসামি সাখাওয়াতকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন