default-image

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়ির সামনে তাঁর ছোট ভাইকে লক্ষ্য করে ককটেল হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে হামলার এ ঘটনা ঘটে। তবে মন্ত্রীর ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন বা অন্য কেউ আহত হননি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাতে অভিযান চালিয়ে স্থানীয় এক সাংবাদিককে আটক করেছে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ। তাঁর নাম হাসান ইমাম রাসেল। তিনি কোম্পানীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক অবজারভার পত্রিকার কোম্পানীগঞ্জের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।

ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাত সোয়া ১০টার দিকে তারাবিহর নামাজ শেষে তিনি বাড়ির পাশের একটি দোকানে আসেন। কিছুক্ষণ পর দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে দাগনভূঞা-বসুরহাট সড়ক দিয়ে দুটি মোটরসাইকেলে করে একদল দুর্বৃত্ত এসে তাঁকে লক্ষ্য করে একটি ককটেল নিক্ষেপ করে। ককটেলটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পাশের গাছের সঙ্গে লেগে বিস্ফোরিত হয়। এ সময় ককটেলের বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন বেরিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে তিনি ঘটনাটি থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ঘটনাস্থল থেকে তিনটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

শাহাদাত হোসেন দাবি করেন, এ ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জের সাংবাদিক নামধারী হাসান ইমাম রাসেল এবং মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারীরা জড়িত। গতকাল বিকেলে রাসেলসহ মিজানুর রহমানের অনুসারীদের তাঁর বাড়ির সামনে রাস্তা দিয়ে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের আরেক ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা অভিযোগ করেছেন, তাঁর ছোট ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের লোকজন সাংবাদিক রাসেলসহ ককটেল হামলা চালিয়েছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাত পৌনে ১১টার দিকে শাহাদাত হোসেনকে লক্ষ্য করে ককটেল হামলা অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক তিনি ঘটনাস্থলে যান। ঘটনাস্থলে তিনটি ককটেল অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ককটেল হামলার সঙ্গে স্থানীয় সাংবাদিক হাসান ইমাম রাসেল জড়িত বলে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা অভিযোগ করার পর রাতে তাঁকে আটক করা হয়েছে। অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে থানায় আগে থেকে একটি মামলা আছে। ককটেল হামলার বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন