default-image

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকার খৈয়াগাঁওয়ে একটি সেতুর এক পাশ বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। এতে দুপাশের কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. আবুল হোসেনের সহযোগিতায় গফুর শেখ নামের এক ব্যক্তি ভরাটের কাজ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সেতুটির দুই পাশের ফসলি জমি স্থানীয় ব্যক্তিদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুর মুখ আটকে বালু দিয়ে ভরাট করায় পানিনিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কৃষিজমিসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, সেতুটির উত্তর পাশের মুখ আটকে বালু ভরাট করা হয়। সেখানে ছোট্ট একটি নালা রাখা হয়েছে। পানিনিষ্কাশনের বেশির ভাগ অংশ বন্ধ থাকায় দক্ষিণ পাশের জমিগুলোর পানিনিষ্কাশর বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে কৃষিজমিতে এখনো পানি আটকে আছে।

জামাল হোসেন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, বছরের এ সময় সেতুর দুই পাশে আলুসহ বিভিন্ন শাকসবজির চাষ হতো। সেতুর মুখ বন্ধ থাকায় এখনো জমিতে পানি আটকে আছে। আশপাশের আবাদি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

সেতুসংলগ্ন এক বাড়ির বাসিন্দা মায়া বেগম বলেন, বালু ভরাটের সময় ভরাটের কাজ বন্ধ রাখতে তাদের বারবার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তারা কারও কথা শোনেনি। জোর করেই এ কাজ করা হয়েছে।

বালু ভরাটের বিষয়ে গফুর শেখের ছেলে আলাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, যেখানে বালু ভরাট হচ্ছে, সে জায়গাটি তাঁদের। তাঁরা সেতুর নিচ দিয়ে ছোট নালা রাখবেন। এতে জলাবদ্ধতা হবে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবুল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সহযোগিতা করিনি। তবে পানিনিষ্কাশনের জন্য একটু জায়গা রেখে মাটি ভরাটের কথা বলেছিলাম। পরে জলাবদ্ধতার বিষয়টি মাথায় রেখে বালু ভরাট করতে নিষেধ করেছি। তবে তারা কথা শোনেনি।’

শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রহিমা আক্তার গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেখতে বলেছেন। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর খোঁজ নিতে পারেননি।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেয়া দেবনাথ জানান, সেখানে লোক পাঠিয়ে খবর নেওয়া হবে। অবৈধভাবে সেতুর মুখ বন্ধ করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য পড়ুন 0