বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, নান্দাইল-দেওয়ানগঞ্জ পাকা সড়কের পাশে আচারগাঁও ইউনিয়নের চানপুর ঈদগাহ মাঠ। ওই ঈদগাহ মাঠের পাশ দিয়ে একটি পিচ ঢালাই সড়ক শেরপুর ইউনিয়নের মেরাকোনা গ্রামের ভেতরে প্রবেশ করেছে। চানপুর ও মেরাকোনা গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়া সড়কটি চিমনি খালের পাড়ে গিয়ে শেষ হয়েছে। সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নেই। লোকজন হেঁটে খালের ওপারে যাওয়া–আসা করে। এ জন্য সেতুর দুই পাশে খাড়াভাবে কাঠের পাটাতন ফেলা হয়েছে। আর উঠতে গিয়ে কেউ যাতে পড়ে না যায়, সে জন্য আড়াআড়িভাবে বাঁশ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নান্দাইল পৌরসভার পাছপাড়া গ্রামের হাফিজ উদ্দিন (৫৫) নামের এক ব্যক্তি উত্তর দিক দিয়ে সেতুর ওপরে উঠছিলেন। হাফিজ বলেন, ‘মেরাকোনা গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছি। চিমনি খাল পাড়ি দিতে গিয়ে আমাদের কতই না কষ্ট করতে হচ্ছে। আমাদের কপালই খারাপ।’

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধি বলেন, নান্দাইল সদরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য ১৯৯৭ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে চিমনি খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুর ওপারে নান্দাইল পৌরসভার কান্দাপাড়া মহল্লা। ওই মহল্লা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নান্দাইল পৌর সদর। কিন্তু এ সেতুর সুবিধা তাঁরা কখনো ভোগ করতে পারেননি। সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতু দিয়ে কখনো কোনো যানবাহন চলেনি। এখন সেতুটি পুরোনো হয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে ভেঙে গেছে। আর কয়েক দিন পর হয়তো হেঁটেও চলাচল করা যাবে না।

মেরাকোনা গ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী মো. মাহমুদুল হাসান (২১) বলেন, সংযোগ সড়ক না থাকায় সেতুটি চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো কাজে আসেনি। এখানে সড়কসহ নতুন একটি সেতু নির্মাণ করা হলে খুব সহজে নান্দাইল পৌরসভা ও ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে যাতায়াত করা যাবে।

একই গ্রামের আবুল হাসিম (৪০) বলেন, সেতুর উত্তর পাশে অনেকের ফসলি জমি রয়েছে। আবার কান্দাপাড়া মহল্লার অনেক বাসিন্দার জমিজমা রয়েছে মেরাকোনা গ্রামে। উভয় পাড়ের লোকজনকে প্রতিটি মৌসুমে উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়া করতে তিন কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। সংযোগ সড়কসহ সেতু নির্মাণ করলে এ ঝামেলা আর হতো না।

নান্দাইল উপজেলার স্থানীয় সরকার বিভাগে (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. আল-আমীন সরকার বলেন, তিনি সেতুটি পরিদর্শন করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন