পৌরসভা সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীন টাঙ্গাইল পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছিল। ৮ মিটার প্রস্থ ও ৪০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ দশমিক ৩৩ টাকা। ঢাকার ব্রিকস অ্যান্ড ব্রিজ লিমিটেড এবং দি নির্মিতি নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই নির্মাণের কাজ পায়। ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোে সঙ্গে সেতু নির্মাণের চুক্তি হয়। কিন্তু টাঙ্গাইল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিরুল ইসলাম খান ও টাঙ্গাইল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা জামিলুর রহমান খানের নেতৃত্বে দলটির স্থানীয় ১০ নেতা–কর্মী কাজটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়ে নেন।

দরপত্রের শর্তানুযায়ী সেতুর সাটারিংয়ে এমএস পাইপ ব্যবহার করার কথা। কিন্তু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতারা সাটারিংয়ে গাছের গুঁড়ি ব্যবহার করেছেন। এ কারণে ১৬ জুন রাতে সেতুর ১ হাজার ৩০ মিলিমিটার দেবে যায়। এ নিয়ে ১৮ জুন প্রথম আলোতে ‘নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই দেবে গেল সেতু’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

নিম্নমানের কাজ করায় টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশরী শিব্বির আহমেদ আজমী গত ১৫ মার্চ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নোটিশ দেন। তবে সেই নোটিশ গ্রহণ করেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতা জামিলুর রহমান খান। দুবার নোটিশ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে গত ১১ মে টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একটি অঙ্গীকারনামা দেওয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, এমএস পাইপের পরিবর্তে গাছের গুঁড়ি ব্যবহার করে ঢালাই চলাকালে সেতুটির কোনো ক্ষতি হলে এর ক্ষতিপূরণ তারা (ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান) বহন করবে।

এ অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আমিরুল ইসলাম খান বলেন, কাজটি খুবই সুন্দরভাবে হয়েছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সেতুটি দেবে গেছে। কাজে তাঁদের কোনো গাফিলতি ছিল না।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শিব্বির আহমেদ আজমী জানান, ‘ঠিকাদারদের কয়েকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, যাতে তাঁরা ঢালাইয়ের সময় এমএস পাইপ ও স্টিলের সাটারিং ব্যবহার করেন। কিন্তু তারা ক্ষমতা দেখিয়ে নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করতে থাকেন। ফলে নির্মাণাধীন সেতুটি দেবে যায়। এ ঘটনা তদন্তে গত রোববার দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন