সেতু ও সড়কের ওপর পশুর হাট

বিজ্ঞাপন
default-image

ঈদের বাজার করে বাড়ি ফিরছিলেন ঢাকার ধামরাইয়ের কাইজারচর গ্রামের রোজিনা বেগম। ব্যাটারিচালিত রিকশায় সাভার বাজার থেকে খেয়াঘাটে যাওয়ার সময় ফোর্ডনগর সেতুর পশ্চিম পাশে গিয়ে আটকা পড়েন কোরবানির পশুর হাটের জন্য। হাটের লোকজন তাঁকে রিকশা থেকে নেমে হেঁটে যেতে বাধ্য করেন।

ধামরাই ও সাভারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত বংশী নদীর ওপরে ফোর্ডনগর এলাকায় ২০১৬ সালে ২৫৯ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করা হয়। এই সেতু হয়ে সাভার ও ধামরাই হয়ে বিকল্প পথে ঢাকা-পাটুরিয়ার মধ্যে যানবাহন চলাচল করে। এ ছাড়া ধামরাইয়ের দক্ষিণাঞ্চলের তিনটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার লোক এই সেতু হয়ে চলাচল করেন।

বৃহস্পতিবার ফোর্ডনগর এলাকায় গিয়ে সেতুর পশ্চিম পাশে সেতু ও সেতুসংলগ্ন সড়কের ওপরে কোরবানির পশুর হাট বসতে দেখা যায়। সেতুর আংশিক ও সেতুসংলগ্ন সড়কের দুই পাশে গরু বেঁধে রাখা হয়েছে। সেতু ও সড়কের মাঝখানের অংশ দখল করে রেখেছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। তাঁদের কাউকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা যায়নি। সেতুর ওপরে আড়াআড়ি বাঁশ বেঁধে রাখা হয়েছে, ফলে পথচারী ও যানবাহন চলাচল করতে পারছেন না।

ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্র জানায়, এবার ধামরাইয়ে তিনটি পশুর হাটের ইজারা হয়েছে। এসব হাটের ইজারা হয়েছে শরীফবাগ, আমিন মডেল টাউন ও ফোর্ডনগর এলাকার জন্য। ইজারার শর্ত অনুযায়ী অবশ্যই আবাসিক এলাকার বাইরে সড়ক থেকে দূরে কোনো ফাঁকা জায়গায় হাট বসাতে হবে। কোনোভাবেই এর ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না।

সূত্রটি জানায়, ফোর্ডনগর পশুর হাটের ইজারা পেয়েছেন স্থানীয় কুল্লা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল হক। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন সরকারি দলের প্রভাবশালী এক নেতার স্বজনেরা।

সেতু ও সড়কের ওপর পশুর হাট বসানোর বিষয়ে ফজলুল হক বলেন, হাটের জায়গা বানের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় সেতু ও সেতুসংলগ্ন সড়কের ওপর পশুর হাট বসাতে বাধ্য হয়েছেন। এতে মানুষের দুর্ভোগের কথা শিকার করেন তিনি।

ধামরাইয়ের ডাউটিয়া এলাকা থেকে পিকআপে করে খাট নিয়ে এসেছেন ফরিঙ্গার রুহুল আমিন। সেতু পার হয়ে হাটের কাছে এসে আটকা পড়ে পিকআপটি। চালক শহীদুল ইসলাম বলেন, ইজরাদারের লোকজনের বাধার কারণে তিনি গাড়ি নিয়ে যেতে পারেননি।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক নারী সদস্য বলেন, ফোর্ডনগরের পশুর হাটের কারণে জনসাধারণ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তা ছাড়া আবাসিক এলাকার ভেতরে সেতু ও সড়কের ওপর হাটের কারণে মানুষজন স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে।

এ বিষয়ে ধামরাইয়ের ইউএনও সামিউল হক বলেন, মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেতু ও সড়কের ওপর কোরবানির পশুর হাট বসানোর কোনো সুযোগ নেই। এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে হাট বসানো হলে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন