default-image

‘হামার হইল বাজান পোড়া কপাল। এটে একনা পুলের জন্যে এমপি, উপজেলার চেয়ারম্যানোক কইনো। নৌকা-লাঙ্গল মার্কাত ভোট দেনো। মানববন্ধন করনো, পুল পাইনো না।’ ক্ষোভের সঙ্গে এ কথা বললেন মুদিদোকানি সামছুল ইসলাম (৩৭)। তাঁর বাড়ি রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের দর্জিপাড়া গ্রামে।

ব্যবসার জন্য প্রায় প্রতিদিনই সামছুল ইসলামকে উপজেলা সদরে যেতে হয়। কিন্তু গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা চিকলী নদীর শাইলবাড়ী ঘাটে সেতু না থাকায় তাঁকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সামছুলের মতো আশপাশে আরও ১২টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষকে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেখানে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে লোকজন পারাপার হন। তবে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। সেতু থাকলে উপজেলা সদর যেতে তাঁদের মাত্র ৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো। কিন্তু সেতু না থাকায় উপজেলা সদরে পৌঁছাতে এখন তাঁদের ১১ কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় উদ্যোগে ওই খেয়াঘাটে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। পুরোনো সাঁকো নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার গিয়ে দেখা যায়, লোকজন মালামাল ও বাইসাইকেল কাঁধে নিয়ে পার হচ্ছেন। এ সময় লালবাড়ি গ্রামের মোসলেম উদ্দিন (৭০) বলেন, ‘হামার কষ্ট কায়ও দেখে না। বড় বড় কথা কয়া যামরা ভোট নেয়, তামরায় এলাকাত আইসে না। সোবায় একনা সেতু বানে দিবার চেয়া ভোট নিয়া ফাঁকি দেয়।’

খেয়াঘাটের পশ্চিমে পাশে কথা হয় ভীমপুর গ্রামের তোজাম্মেল হকের (৪৮) সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দ্যাশোত কত উন্নয়ন হওছে, খালি হামার গ্রামোত পুল কোনায় কায়ও না বানাওছে। এই পুল কোনার জন্য হামরা ফসলের ভালো দাম পাওছি না। যাওয়া আইসা করতেও কষ্ট হওছে। এটে পুল কোনা হইলে হামার খুব উপকার হইল হয়।’

চকতাহিরা গ্রামের এনতাজ আলী (৫৫) বলেন, ‘এমনিতে হামার গ্রাম থাকি তারাগঞ্জ যাওয়ার পাকা রাস্তা নাই। তাঁর ওপর নদীত পুল নাই। রাইতোত কায়ও যদি মরিও যায় তাও রোগীক হাসপাতালোত নিয়া যাওয়া মুশকিল।’

সেতু না থাকায় মানুষের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে আলমপুর ইউপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এনামুল হক বলেন, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা সমন্বয় কমিটিতে আলোচনা হয়েছে। এখানে সেতু নির্মাণ হলে অবহেলিত এ অঞ্চলের পরিবর্তন আসবে।

উপজেলা প্রকৌশলী আহাম্মেদ হায়দার জামান বলেন, তারাগঞ্জের খেয়াঘাটগুলোয় সেতু নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংসদের সঙ্গে কথা হয়েছে। বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে সেতু নির্মাণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0