বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ৭ মে ওই খেয়াঘাটে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। বরিশালের মেসার্স রুপালী কনস্ট্রাকশন-মাম (জেভি) কাজটি পায়। চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কাজ শুরু হয়ে ৩০০ দিনের মধ্যে ২০২০ সালের ২৬ জুলাই কাজ শেষ হওয়ার কথা। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কয়েক দফা সময় বাড়ায়। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।

উজানচর ইউনিয়নের মইজদ্দিন মোল্লা পাড়ার জাকির হোসেন বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের পর থেকে দেখে আসছি এ খাল দিয়ে মানুষকে নৌকায় পারাপার হতে। এলাকাবাসী দীর্ঘদিন এ খালের ওপর সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজের তেমন অগ্রগতি দেখছি না। আমাদের নৌকার ওপর ভরসা করতে হচ্ছে।’

আনন্দবাজারের ব্যবসায়ী সেলিম শেখ বলেন, তাঁর বাড়ি বেড়িবাঁধের উত্তরে উজানচরের মধ্যে। বেড়িবাঁধের দক্ষিণে আনন্দবাজার অবস্থিত। বাড়ি থেকে বাজারের দূরত্ব মাত্র ১০০ মিটার হবে। অথচ মধ্যে খাল থাকায় প্রতিদিন নৌকায় যাতায়াত করতে হয়। সেতু হলে অনেক সুবিধা হবে।

উজানচর ইউপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য চুন্নু মীর মালত বলেন, দুটি ইউনিয়নের তিন–চার হাজার মানুষ প্রতিদিন ঘাট দিয়ে যাতায়াত করে। এ ঘাটের ওপর অন্তত ২০ হাজার মানুষ নির্ভর করে। হাটবাজারে কৃষকেরা কৃষিপণ্য নিয়ে যাতায়াত করেন। শিক্ষার্থীদেরও চলাচল করতে হয়। ফরিদপুরে রোগী নেওয়ার জন্য এ অঞ্চলের মানুষকে এ খাল পার হতে হয়। সেতু নির্মাণের ধীরগতির কারণে তাঁদের ভোগান্তি কমছে না।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘ইতিমধ্যে সেতু নির্মাণের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বর্ষাকালে খালে পানি থাকায় আপাতত কাজ বন্ধ রয়েছে। পানি নেমে গেলে পুরোদমে কাজ শুরু হবে। এখন শুধু স্ল্যাবের কাজ বাকি আছে। আশা রাখি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে।’

উপজেলা প্রকৌশলী বজলুর রহমান খান বলেন, ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে সর্বশেষ গত ২৩ আগস্ট চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের গার্ডার, ডেক স্ল্যাব ঢালাইসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এর আগেও কাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে ঠিকাদারকে কয়েক দফা চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন