default-image

সেতু নির্মাণ না করেই টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের তারাকান্দার বানিহালা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারমানের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বানিহালা ইউনিয়নের নলচাপড়া গ্রামের বড়বিলা বিলের মাঝখান দিয়ে গেছে একটি সড়ক। সেখানে সেতু নির্মাণের জন্য ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার সরকারি বরাদ্দ আসে। সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সভাপতি করা হয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছায়াদুল হককে। কিন্তু প্রকল্প সভাপতিকে না জানিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত টাকা তুলে নেন।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে টেংগুলিয়াকান্দা গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম ১২ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস গতকাল শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, একজন কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কাল (আজ) রোববার প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, বড়বিলা এলাকার যে স্থানে সেতুটি নির্মাণের কথা, সেখানে শুধু ঢালাই দেওয়া আছে। ঢালাইয়ের ওপর মাটি দেওয়া। আশপাশে ধান কাটার কাজে ব্যস্ত ছিলেন কৃষকেরা। অন্তত ১০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, সেতুটি নির্মিত না হওয়ায় তাঁরা কষ্টে আছেন। এই স্থানে সড়কটি স্বাভাবিকের চেয়ে নিচু। ফলে ধান কাটার পর ইজিবাইক দিয়ে বাড়িতে নিতে হচ্ছে। এ ছাড়া সেতুটির জায়গায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।

আবু বক্কর সিদ্দিক নামের একজন কৃষক বলেন, ‘সেতুটির জায়গার দুই পাশে আমার জমি রয়েছে। সেতুর নির্মাণকাজ বিঘ্নিত হতে পারে, এমন ধারণা থেকে আমি দুই পাশের জমিতে ধান চাষ করিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেতুটি নির্মাণ করা হয়নি। আমরা জানতে পেরেছি, সেতু নির্মাণ না হলেও টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।’

প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য ছায়াদুল হক বলেন, চেয়ারম্যান আবুল হাসনাত টাকা তুলে নিয়েছেন। ফলে তিনি কাজটি শেষ করতে পারেননি। তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, চেয়ারম্যান দুটি চেকের মাধ্যমে বরাদ্দের টাকা তুলে নিয়েছেন। এতে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বানিহালা ইউপির চেয়ারম্যান আবুল হাসনাতকে গতকাল ফোন করেন এই প্রতিবেদক। তবে তিনি পরে কথা বলবেন, বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাকারিয়া আলম বলেন, সেতুটির নির্মাণকাজের টাকা দুটি চেকের মাধ্যমে ইউপিকে কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেই টাকা যৌথ স্বাক্ষরের মাধ্যমে উত্তোলন করেছেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন