বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এলজিইডির পিরোজপুর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে জেলা সদরের সঙ্গে নেছারাবাদ উপজেলার বাসিন্দাদের যাতায়াত সুগম করতে কালীগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সদর উপজেলার কলাখালী ও নেছারাবাদ উপজেলার চাঁদকাঠি খেয়াঘাটসংলগ্ন নদীতে সেতুটি নির্মাণের স্থান নির্বাচন করা হয়। এরপর ‘পল্লি সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের অধীনে কালীগঙ্গা নদীর ওপর ৬০০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করার জন্য দরপত্র আহ্বান করা করা হয়। ২০১৮ সালের ৬ মে নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডকে সেতুটি নির্মাণের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ১১৫ কোটি ৪ লাখ ২ হাজার ৫৪০ টাকা চুক্তিমূল্যের কার্যাদেশে কাজ শেষের মেয়াদ ছিল ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর। কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুটির পাইলিংয়ের কাজ শুরু করে। তবে পাইলিংয়ের কাজ শুরু করার কয়েক মাস পর সেতুটির নির্মাণ বন্ধ রাখা হয়।

নির্দিষ্ট মেয়াদে সেতুর কাজ শেষ করতে না পারায় এলজিইডির পিরোজপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শুরুর জন্য কয়েক দফা চিঠি দেন। বিভিন্ন সময়ে ১০ বার চিঠি দেওয়ার পরও কাজ শুরু করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চলতি বছরের ৯ সেপ্টেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের কার্যাদেশ বাতিল করে চিঠি দেন নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুস সাত্তার।

পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সাংসদ নেছারাবাদ উপজেলার বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, ‘এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল কালীগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মাণের। সেতুটি নির্মাণের শুরুতেই কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নেছারাবাদ, কাউখালী ও বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষের পিরোজপুর ও খুলনার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত হলো। সেতুটি নির্মিত হলে নেছারাবাদ উপজেলার ছয়টি ও কাউখালী উপজেলার দুটি ইউনিয়নের কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটত।’

এলজিইডির এক প্রকৌশলী জানান, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ছয় থেকে সাত কোটি টাকার কাজ করেছে। শুনেছি, প্রতিষ্ঠানটি অর্থনৈতিক সংকটে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ রেখেছে।’

নাভানা কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপক খালিদ মাহমুদ গত বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে বলেন, কার্যাদেশ বাতিলের চিঠি তাঁরা পেয়েছেন। কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুস সত্তার বলেন, শিগগিরই আগের ঠিকাদারদের দেনাপাওনার হিসাব চূড়ান্ত করা হবে। এরপর নতুন দরপত্র আহ্বান করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন