বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কালকিনি উপজেলার ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, ২০ বছর আগে শিকারমঙ্গল ইউনিয়নের সঙ্গে ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার জন্য চরফতেবাহাদুরপুর এলাকায় চোকদার খালের ওপর ১০০ ফুট দীর্ঘ একটি লোহার সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুটি কয়েক বছর মানুষের উপকারে এলেও নির্মাণের ছয় বছরের মধ্যে সেতুর ওপরের স্ল্যাব ভাঙতে শুরু করে। একপর্যায়ে সেতুটির লোহার পাতে মরিচা ধরে গেলে সেতুর খুঁটি ভেঙে সেটি খালে ধসে পড়ে। এর পর থেকে সেতুটি আর সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, ধসে পড়া সেতুটির কিছু লোহার বিম ও একটি ইট–সিমেন্টের তৈরি পিলার অবশিষ্ট আছে। সেগুলোর সঙ্গে বাঁশ বেঁধে সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু দিয়ে চলাচল করছে। সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়ায় এই এলাকার কৃষকেরা তাঁদের কৃষিপণ্য পরিবহনে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, শিকারমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলার শহরের সঙ্গে চরফতেবাহাদুরপুর এলাকার মানুষের যোগাযোগের জন্য ওই সেতু ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। চরফতেবাহাদুরপুর ও শিকারমঙ্গল এলাকার অন্তত তিন হাজার মানুষ তাদের চলাচলের সুবিধার্থে ধসে পড়া সেতুর খুঁটির সঙ্গে বাঁশ বেঁধে সাঁকো তৈরি করেছেন।

স্থানীয় ষাটোর্ধ্ব কৃষক আবদুল রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে পড়ায় ১০ বছর ধরে আমাগো কষ্ট সহ্য করতে হইতাছে। আগে এই সেতুর ওপর দিয়া গরু–ছাগল হাটে নিতাম। এখন সেই সুযোগ আর নাই। আমাগো যাতায়াতের জন্য সরকার আর আশ্বাস না দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে নতুন করে সেতু বানাইয়া দিক।’

শিকারমঙ্গল এলাকার স্কুলছাত্রী সোনিয়া আক্তার বলেছে, ‘স্কুলে যাইতে এই সাঁকো পার হইতে হয়। মাঝেমধ্যে সাঁকো পার হইতে ভয়ও লাগে। পা একটু এদিক–সেদিক হইয়া গেলে মনে হয় খালে পড়ে যাব।’

চরফতেবাহদুরপুর এলাকার ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘১০ বছরের বেশি সময় ধরে সেতুটি এভাবে পড়ে আছে। সেতুটি নতুন করে নির্মাণের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এমপি কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। আমরা অনেকবারই নতুন সেতুর জন্য আবেদন করেছি। আশ্বাস ছাড়া আর কিছুই পাই নাই।’

কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিপংকর তঞ্চ্যাঙ্গা বলেন, ‘জরাজীর্ণ সেতুর বিষয়টি আমাদের নজরে ছিল না। যত দ্রুত সম্ভব ওই এলাকায় উপজেলা প্রকৌশলীকে পাঠাব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন