দিবসটি উপলক্ষে শ্রীরামসি স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা ও মিলাদ হয়েছে। শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়।

গ্রামের বাসিন্দারা ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। বাড়িতে বাড়িতে আশ্রয় দিতেন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। তাঁদের নিরাপদ আশ্রয় ছিল শ্রীরামসি গ্রাম। সেদিনের বর্বরতায় শহীদদের স্মরণে গ্রামের দুটি স্থানে স্মৃতিসৌধ আছে। ৩১ আগস্ট এলেই স্বজনহারা মানুষের মনে সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি ভেসে ওঠে। শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় শহীদদের স্মরণ করেন তাঁরা। চোখের জল ফেলেন।

১৯৮৭ সাল থেকে ৩১ আগস্টকে ‘আঞ্চলিক শোক দিবস’ হিসেবে পালন করছেন এলাকাবাসী। প্রশাসনের শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক–রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে শ্রদ্ধা নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার শ্রীরামসি স্মৃতিসৌধে শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা ও মিলাদ হয়েছে। একইভাবে শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়।

default-image

শহীদ গাজী ফাউন্ডেশন নামে একটি সামাজিক সংগঠন ২০০৩ সাল থেকে প্রতিবছর গণহত্যা দিবসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে আসছে। শহীদ গাজী পাঠাগারের সভাপতি আবুল কাশেম আকমল বলেন, দিবসটি উপলক্ষে দুপুর ১২টায় রানীগঞ্জ শহীদ গাজী পাঠাগারে শোকসভা, রানীগঞ্জ মাদ্রাসা জামে মসজিদে বাদ জোহর খতমে কোরআন ও দোয়া মাহফিল এবং বেলা দুইটায় শহীদ আকলু মিয়ার বাসভবনে এতিম ও মিসকিনদের নিয়ে এক মধ্যাহ্নভোজনের আয়োজন করা হয়।

সুনামগঞ্জের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান তাঁর ‘একাত্তরের সুনামগঞ্জ’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘রাজাকার ও পাকিস্তানি বাহিনী সেদিন শ্রীরামসি গ্রামে যে গণহত্যা চালায়, তাতে দেড় শ মানুষ প্রাণ হারান। ২৯ আগস্ট স্থানীয় ছিলাউড়া গ্রামের দুজন রাজাকার শ্রীরামসি গ্রামে আসে। তারা গ্রামের যুবকদের রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিতে বলে। কিন্তু গ্রামের যুবকেরা রাজাকারদের ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেন। যাওয়ার সময় রাজাকাররা শ্রীরামসি গ্রামের মানুষদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে যায়।’

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা ইলিয়াছ আলী বলেন, ৩১ আগস্ট সকালে নৌকায় করে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা আসে গ্রামে। শ্রীরামসি উচ্চবিদ্যালয়ে ওঠে তারা। এলাকার শান্তি রক্ষায় কমিটি গঠন এবং নিরাপদে চলাচলের জন্য প্রত্যেককে ‘ডান্ডি কার্ড’ দেওয়ার কথা বলে। ধীরে ধীরে মানুষজন জড়ো হন স্কুলে। তাঁদের মধ্য থেকে শতাধিক ব্যক্তিকে স্কুলের দুটি কক্ষে নিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর কয়েকটি নৌকায় করে তাঁদের নেওয়া হয় গ্রামের বাসিন্দা হিরণ মিয়ার বাড়ির পুকুরপাড়ে। সেখানে রশিতে বাঁধা অবস্থায় দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় তাঁদের। সেদিনের গণহত্যায় ইলিয়াছের তিন আত্মীয় শহীদ হন।

১৯৮৭ সালে শ্রীরামসি উচ্চবিদ্যালয়ে শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। ২০০২ সালে হিরণ মিয়ার বাড়ির পুকুরপাড়ে ঘটনাস্থলে আরেকটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। হিরণ মিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে এটি করা হয়েছে। দুটি স্মৃতিসৌধেই শহীদদের নামের আংশিক তালিকা রয়েছে।

শ্রীরামসি গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সেদিন যাঁরা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, আমরা তাঁদের বীর মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চাই।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন