বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুপুরে কক্সবাজার সৈকতের একটি হোটেল সংবাদ সম্মেলন করে স্কোয়াব। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন স্কোয়াবের সভাপতি তোফায়েল আহমদ।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সেন্ট মার্টিনে জাহাজ চলাচল সীমিত করার চিন্তা করছে বিআইডব্লিউটিএ। মাত্র দুটি জাহাজ চললে কয়েক হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিনের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন, যার প্রভাব পড়বে পুরো পর্যটনশিল্পে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেলের ব্যবসা। জাহাজ চলাচল বন্ধ হলেও, বিকল্প পথে কাঠের নৌকায় চড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেন্ট মার্টিনে যাতায়াত করবেন পর্যটকেরা। তখন যে লক্ষ্যে জাহাজ চলাচল সীমিত করা হচ্ছে, তার সুফল আসবে না। উল্টো ঝুঁকি বাড়বে পর্যটন খাতে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বিরল জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং টেকসই পর্যটন উন্নয়নে অংশীজন পরামর্শ সভায় গৃহীত প্রাথমিক সুপারিশগুলো চূড়ান্তকরণে ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সভাকক্ষে সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে সবকিছু চূড়ান্ত করা হবে।
মো. মামুনুর রশীদ, জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার

স্কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে জারিকৃত ১৩ দফা নির্দেশনার সঙ্গে জাহাজমালিক কর্তৃপক্ষ একমত এবং সেসব বাস্তবায়নে তাঁরা মাঠে আছেন। কিন্তু নানা অজুহাতে জাহাজ চলাচল এবং পর্যটক সীমিত করা হলে হোটেল ব্যবসাসহ পর্যটন খাতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। স্বল্পসংখ্যক পর্যটক ব্যবস্থাপনায় দ্বীপের ১৮৮টি আবাসিক হোটেল নতুন সংকটে পড়বে। সেন্ট মার্টিনের অন্তত ৫ হাজার বাসিন্দার জীবিকা হুমকিতে পড়বে।

এ ক্ষেত্রে সরকারের করণীয় তুলে ধরে সাধারণ সম্পাদক বলেন, বর্তমান চলাচলরত ১০টি জাহাজে করে সর্বোচ্চ ৩ হাজার পর্যটক সেন্ট মার্টিন যাতায়াত করবেন। দ্বীপের আবাসিক হোটেলগুলোতে কক্ষ আছে ১ হাজার ৪০০টি। প্রতি কক্ষে একজন করে দৈনিক ১ হাজার ৪০০ জন পর্যটক সেন্ট মার্টিনে রাতযাপন করবেন। বাকি ১ হাজার ৬০০ জন পর্যটক গন্তব্যে ফিরে আসবেন। ১০ বছর ধরে এই প্রক্রিয়ায় পর্যটক যাতায়াত করে আসছেন। সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখতে চান জাহাজমালিকেরা। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও নির্দেশনা আশা করেন তাঁরা।

সংগঠনের সভাপতি তোফায়েল আহমদ বলেন, কক্সবাজার সৈকতও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)। সেখানে লাখ লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটছে, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। প্রতিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, এই অজুহাতে সেন্ট মার্টিনে পর্যটক সীমিত করা গেলে কক্সবাজারের ইসিএ এলাকা কেন হবে না? কক্সবাজার সৈকতে নামতে যদি কাউকে এক পয়সা ট্যাক্স দিতে না হয়, সেন্ট মার্টিনে গেলে কেন একজন পর্যটককে ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকা ট্যাক্স দিতে হবে, এটা বোধগম্য হচ্ছে না। আসলে কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পকে ধ্বংস করতে একটি মহল চক্রান্ত করছে। তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিনকে ঘিরেই এক-তৃতীয়াংশ পর্যটকের আগমন ঘটে কক্সবাজারে। সেন্ট মার্টিনে যদি পর্যটক সীমিত করা হয়, তাহলে কক্সবাজারে হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে তৈরি হোটেল, মোটেল, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পর্যটন খাতে কোটি টাকার বিনিয়োগে ধস নামবে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পরিবেশ, প্রতিবেশ ও বিরল জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং টেকসই পর্যটন উন্নয়নে অংশীজন পরামর্শ সভায় গৃহীত প্রাথমিক সুপারিশগুলো চূড়ান্তকরণে ২৪ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সভাকক্ষে সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে সবকিছু চূড়ান্ত করা হবে। আমরা চাই, সেন্ট মার্টিন বাঁচুক। দ্বীপটি মরে গেলে সেখানে কেউ যাবেন না।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন