বিজ্ঞাপন

সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুল্লাহ খান প্রথম আলোকে বলেন, বুধবার ভোর থেকে দমকা হাওয়া শুরু হয়। মাঝেমধ্যে ভারী ও মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জোয়ার ছিল। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আটটি বসতঘর, একটি জেটি ও সাতটি ট্রলার বিধ্বস্ত হয়েছে। দ্বীপের চারদিকে লবণাক্ত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। নাফ নদীর জোয়ারের পানির তোড়ে শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়ায় ২০টি বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এসব পরিবার স্বজনদের কাছে আশ্রয় নিয়েছে।
সাবেক ইউপি সদস্য আবদুস সালাম বলেন, শাহপরীর দ্বীপের জালিয়াপাড়ার জেলেপল্লিতে একটিমাত্র বিদ্যালয় রয়েছে। এই বিদ্যালয় ভবন বর্তমানে ঝুঁকিতে। ভবনগুলো রক্ষা করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, ১৯৭৩ সালে নাফ নদীর তীরে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৩২১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তিনটি ভবনে যেভাবে জোয়ারের পানি আঘাত করছে, এতে হুমকির মুখে পড়েছে বিদ্যালয়টি। জরুরি ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সেন্ট মার্টিন ইউপির চেয়ারম্যান নুর আহমেদ বলেন, জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে তিন-চার ফুট বেড়ে যাওয়ায় সেন্ট মার্টিন দ্বীপের অনেক ক্ষতি হয়েছে। দ্বীপের চারদিকের বালিয়াড়ি, কেয়াবন, নারকেল ও ঝাউগাছ ঢেউয়ের আঘাতে উপড়ে পড়েছে। পাশাপাশি লোকালয়ে সাগরের নোনাজল ঢুকে পড়েছে। এতে করে দ্বীপে খাওয়ার পানির তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে। দ্বীপের একমাত্র পর্যটক জেটি, উত্তর সৈকতের হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইস, প্রিন্স হ্যাভেন, জলতরঙ্গ, পুলিশ ফাঁড়ি, বড় কবরস্থান, ডেইলপাড়ার আটটি বসতঘর, সাতটি ট্রলার, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জানতে চাইলে টেকনাফের ইউএনও পারভেজ চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো স্বজনদের কাছে আশ্রয় নিয়েছে। স্ব স্ব এলাকার জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে তাদের রান্না করা খাবার ও পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণসামগ্রীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন