নিহত অনিক হোসেন (২২) কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের বুগির গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে। অপর নিহত জহির মিয়া (২৫) কাইমপুর ইউনিয়নের কাইমপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। আর গুরুতর আহত শ্রমিক জাকির হোসেন (৪০) উপজেলার বায়েক গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের বায়েক গ্রামের কামাল হোসেন একটি ভবন নির্মাণ করছেন। ওই ভবনের জন্য একটি শৌচাগারের সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করেছেন। ২০-২৫ দিন আগে সেপটিক ট্যাংকের ছাদ দেন। আজ দুপুরে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার এবং শাটারিংয়ের কাঠ-বাঁশ সরিয়ে নিতে নির্মাণশ্রমিকেরা কাজ শুরু করেন। সেপটিক ট্যাংকে প্রথমে একজন শ্রমিক প্রবেশ করে তিনি কোনো কথা বলছিলেন না। এ সময় অন্য একজন শ্রমিকও ভেতরে ঢুকে তিনিও আর কথা বলছিলেন না। এ সময় জাকির হোসেন ট্যাংকে নেমে তাঁদের অবস্থা দেখে চিৎকার করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনিও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

সেপটিক ট্যাংকে প্রথমে একজন শ্রমিক প্রবেশ করে তিনি কোনো কথা বলছিলেন না। এ সময় অন্য একজন শ্রমিকও ভেতরে ঢুকে তিনিও আর কথা বলছিলেন না। এ সময় তৃতীয়জন ট্যাংকে নেমে তাঁদের অবস্থা দেখে চিৎকার করতে থাকেন।

খবর পেয়ে কসবা থানা-পুলিশ, কুটি চৌমুহনী থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁদের সেপটিক ট্যাংকে থেকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। এ সময় অনিক হোসেন ও জহির মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া ও কর্তব্যরত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আনিকা বাশারাত বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত জাকির হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা বলেন, সেপটিক ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাস জমা ছিল। ওই গ্যাস মানুষের জন্য খুবই ক্ষতিকর। ওই গ্যাসের কারণের তাঁদের মৃত্যু হয়েছে।

খবর পেয়ে নির্মাণশ্রমিক অনিক হোসেনের মা বিলকিছ বেগম, স্ত্রী রিমা আক্তারসহ পরিবারের অন্যরা হাসপাতালে আসেন। মা বিলকিছ বেগম ও স্ত্রী রিমা আক্তার চিৎকার করতে করতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অনিক হোসেনের বাবা নেই। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে অনিক সবার বড়। তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দুই বছর আগে তিনি বিয়ে করেছিলেন। তাঁর দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। নিহত জহির মিয়ার চাচাতো ভাই আবদুল্লা আল মামুন বলেন, নির্মাণশ্রমিকের কাজ করেই চলত জহিরের সংসার।

কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আলমগীর ভূঁইয়া বলেন, নিহত দুজনের লাশ কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। তাঁদের ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পরবর্তীকালে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।