বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মে মাসের মাঝামাঝি হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গের রোগী বাড়তে থাকে। প্রথমে রোগী বেশি ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের। জুনে এসে পুরো রাজশাহী বিভাগের রোগীতে ভরে যায় হাসপাতালটি। জুনের মাঝামাঝি থেকে শুরু করে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে রোগীর ঠাঁই দিতে হিমশিম খেতে হয়। পরে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ কমতে থাকে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিনে এসে তা ১০০-এর নিচে নেমে এল।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জুনে রোগী বেড়ে যাওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কয়েক দফায় শয্যা বাড়ানো হয়। সর্বশেষ ২১ আগস্ট পর্যন্ত কেবিন ও আইসিইউ মিলিয়ে শয্যাসংখ্যা ছিল ৫১৩। আগস্টে করোনা রোগীর চাপ কমায় হাসপাতালে দুই দফায় শয্যা কমানো হয়েছে। শয্যা কমিয়ে প্রথমে ৫১৩ থেকে ৪১৮ করা হয়। পরে আরেক দফা কমিয়ে তা থেকে ২৮৬ শয্যা করা হয়। সেপ্টেম্বরে সবশেষ আরেক দফায় তা কমিয়ে ২৪০ করা হয়।

হাসপাতাল সূত্র বলছে, গত জুন-জুলাইয়ে হাসপাতালে ১০ থেকে ২৫-এর মধ্যে মৃত্যু ওঠানামা করলেও আগস্টে এসে তা ১০-এর নিচে নেমেছে কয়েকবার। আর সেপ্টেম্বরে তা আরও কমেছে। হাসপাতালে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে গত জুন মাসে মারা গেছেন ৩৪৬ জন। জুলাইয়ে মারা গেছেন সর্বোচ্চ ৫৩৫ জন। আগস্ট মাসে মারা গেছেন ৩৫৪ জন। সবশেষ সেপ্টেম্বর মাসে মারা গেলেন ১৬৪ জন, যা আগস্টের তুলনায় অর্ধেকের কম। তবে এই সেপ্টেম্বর মাসে করোনায় মারা গেছেন মাত্র ৪৩ জন। উপসর্গে মারা গেছেন ১১০ জন। করোনা থেকে সুস্থ হলেও পরবর্তী জটিলতায় মারা গেছেন আরও ১১ জন। হিসাব করে দেখা গেছে, হাসপাতালে সেপ্টেম্বরে করোনার তুলনায় উপসর্গে দ্বিগুণের বেশি মারা গেছেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী প্রথম আলোকে বলেন, গত মে মাসের পর আজ করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১০০-এর নিচে নেমে গেছে। এ কারণে হাসপাতালের আরেকটি করোনা ওয়ার্ড আগামী শনিবার কমিয়ে দেওয়া হবে। ওই ওয়ার্ডে শয্যা আছে ৪১টি। এটি কমানো হলে করোনা ওয়ার্ডের মোট শয্যা কমে হবে ১৯৯টি। আর ১৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে করোনার ওয়ার্ড হবে ৬টি।

করোনার চেয়ে উপসর্গে মৃত্যু বেশি কেন, এ বিষয়ে শামীম ইয়াজদানী বলেন, এখনো অনেক রোগী করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পরও টের পান না কিংবা গুরুত্ব দেন না। যখন পরিস্থিতি একেবারে খারাপ হয়ে যায়, তখন হাসপাতালে আনা হয়। স্বাভাবিকভাবে তখন পরীক্ষা করালে করোনা ‘পজিটিভ’ থাকে না। হাসপাতালে এই ধরনের রোগীর সংখ্যা বেশি। তাই তাঁদের মৃত্যু বেশি এবং তাঁদের মৃত্যুকে উপসর্গে দেখানো হয়। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে আগের চেয়ে করোনা রোগী কমাতে সাধারণ রোগীদের ভিড় বেড়ে গেছে। তাঁরা প্রত্যাশা করছেন, সামনের মাসে করোনা রোগী আরও কমবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন