default-image

নড়াইল সদর হাসপাতালের হিসাবরক্ষক জাহানারা খানমের (লাকি) বিরুদ্ধে সেবা ফির প্রায় ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তিনি ব্যাংকে ফির টাকা জমা দেননি। কিন্তু টাকা জমার জাল চালান কার্যালয়ে সংরক্ষণ করেছেন।

এ ঘটনায় গতকাল বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া জাহানারা খানমকে ফি গ্রহণের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক আব্দুস শাকুর বলেন, সেবা ফির টাকা প্রতিটি বিভাগ থেকে লিখিতভাবে গ্রহণ করেন হিসাবরক্ষক। প্রতি মাসে ওই টাকা ব্যাংকে চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু হিসাবরক্ষক জাহানারা খানম ওই টাকা জমা দেননি। তিনি জাল চালান তৈরি করে অফিসে সংরক্ষণ করেছেন। বিষয়টি সন্দেহ হলে গত মঙ্গলবার ব্যাংকে গিয়ে যাচাই করে এর সত্যতা পাওয়া যায়।

আব্দুস শাকুর আরও বলেন, তিন দিনের মধ্যে ওই টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য জাহানারা খানমকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাঁকে কারণ দর্শানো হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে। তাঁকে সেবা ফি গ্রহণের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রধান সহকারী মঞ্জুরুল আলমকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে জাহানারা খানম সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু টাকা জমা দেওয়া হয়নি। তা এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দিয়ে দেব।’ জাল চালান তৈরি এবং কত টাকা জমা দেননি—এসব প্রশ্নের জবাব দেননি তিনি।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান সার্জারি বিভাগের জ্যেষ্ঠ কনসালট্যান্ট আকরাম হোসেন এবং সদস্যসচিব আরএমও আ ফ ম মশিউর রহমান।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয় সূত্র জানায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগ ফি, জরুরি বিভাগ ফি, ভর্তি ফি, প্যাথলজি ফি, এক্স-রে ফি, আলট্রাসনোগ্রাফি ফি, ক্যাবিন ফি, অ্যাম্বুলেন্স ফি, অপারেশন ফি, কোভিড-১৯ বাবদ ফিসহ অন্যান্য ফি সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। এসব ফি সোনালী ব্যাংকের চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়। সদর হাসপাতালের এসব ফির টাকা নড়াইল সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় জমা হওয়ার কথা। এ বাবদ ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত প্রায় ৭০ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়নি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এর আগের হিসাবরক্ষক মাহফুজুর রহমান সাত বছরের সেবা ফির প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা জমা দেননি। বিষয়টি অডিটে ধরা পড়লে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যশোর কার্যালয়ে মামলা হয় (মামলা নম্বর-৪/২০২০)। মামলাটি বিচারাধীন আছে।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুস শাকুর বলেন, প্রতিবছর অডিট হওয়ার কথা। কিন্তু অডিট হয় চার-পাঁচ বছর পর। প্রতিবছর অডিট হলে এমন সমস্যা হতো না।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন