default-image

নীলফামারীর সৈয়দপুরে বরখাস্ত হওয়া মাদকাসক্ত রেলওয়ে কর্মচারীর হাতে তাঁর ছোট ভাই খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে শহরের শেরেবাংলা স্কুলসংলগ্ন বাঁশবাড়ি মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম ইমরান হোসেন খন্দকার (২৮)। তিনি কে এস এম আরিফের ছোট ছেলে। অভিযুক্ত বড় ভাই জাকির হোসেন খন্দকার (৩২) ঘটনার পর থেকে পলাতক।

এলাকাবাসী জানান, ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি (সিএ) বিষয়ের ছাত্র ইমরান হোসেন খন্দকার আজ সকালে সৈয়দপুরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পর নিজেদের বাঁশবাড়ি মহল্লার বাড়িতে বড় ভাই জাকির হোসেন খন্দকারের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। জাকির সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার একজন বরখাস্ত কর্মচারী। বচসার একপর্যায়ে বড় ভাই জাকির ধারালো চাকু দিয়ে ছোট ভাই ইমরানের বুকে আঘাত করেন। এতে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন ইমরান। এলাকাবাসী দ্রুত তাঁকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথেই মারা যান ইমরান।

এক ছেলে আরেক ছেলেকে খুন করেছে। আমার আর কিছু থাকল না।
কে এস এম আরিফ, নিহত ইমরানের বাবা
বিজ্ঞাপন

লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘জাকির হোসেন খন্দকার মাদকসেবী ছিলেন। এ কারণে তিনি কর্মস্থল থেকে সম্প্রতি চাকরিচ্যুত হন। মাদক সেবনের টাকার জন্য তিনি প্রায়ই বাবার সঙ্গে ঝগড়া করতেন। এই পরিস্থিতিতে ঢাকা থেকে আসা ছোট ভাইয়ের সঙ্গেও ঝগড়া হয় তাঁর। পরে বড় ভাই ছোট ভাইকে ছুরি মেরেছেন বলে জানতে পারি।’

এদিকে ঘটনার পরপরই জাকির হোসেন খন্দকার এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। হাউমাউ করে কাঁদছিলেন নিহত ইমরানের বাবা কে এস এম আরিফ। তিনি বলেন, ‘এক ছেলে আরেক ছেলেকে খুন করেছে। আমার আর কিছু থাকল না।’

সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, আসামি পালাতক। তাঁকে ধরার চেষ্টা চলছে।

সৈয়দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসনাত খান বলেন, এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য করুন