বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের আকিলপুর এলাকার এরশাদ উল্যাহর মেয়ে রিয়া আক্তার ও একই উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের সুলাখালী এলাকার আবদুল মালেকের ছেলে আমিনুল ইসলামের বিয়ে হয়। কনের বাড়িতে আয়োজিত বিয়ের অনুষ্ঠানের খাবার খাওয়ার পর থেকে অসুস্থ হতে থাকে বরপক্ষের লোকজন।

আজ দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, পেটে ব্যথা নিয়ে ৩০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কেউ কেউ চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ২০ জন নারী ও শিশু এবং ১০ জন পুরুষ রয়েছেন।

দু-একজনের সমস্যা হলে বিষয়টি স্বাভাবিক ছিল। যখন শুনলাম প্রায় সবারই এ সমস্যা হয়েছে, তখন বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। তবে মেয়েপক্ষেরও ৫-৬ জন লোক অসুস্থ হয়েছে বলে শুনেছি। দাওয়াতে অংশ নেওয়া সবাই গরুর মাংস খেয়ে অসুস্থ হয়েছেন। আমিসহ যারা গরুর মাংস খাইনি, তাদের কোনো সমস্যা হয়নি
মো. দুলাল হোসেন, বরের মামা

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. সাদেকুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, বিয়েবাড়িতে দাওয়াত খেয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে বমি ও পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ৩৫ জন রোগী এসেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন। রবিউল হক নামে একজনের অবস্থা খারাপ হওয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ফেনীর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুপুরে আরও কয়েকজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সিরাজুল ইসলাম (৬০) নামের এক রোগী বলেন, ‘দাওয়াত খেয়ে আসার পর থেকে পেটব্যথা শুরু হয়। রাত ১১টার দিকে বাড়িতে ১৫-২০ জনের পাতলা পায়খানা ও বমি হতে থাকে। অবস্থা বেশি খারাপ হলে রাতেই এসে হাসপাতালে ভর্তি হই। প্রথমে ভেবেছিলাম, শুধু আমার পেটে সমস্যা হয়েছে। পরে জানতে পারলাম, ওই অনুষ্ঠানে যারা এসেছিল, প্রায় সবার একই অবস্থা।’

বরের মামা মো. দুলাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দু-একজনের সমস্যা হলে বিষয়টি স্বাভাবিক ছিল। যখন শুনলাম প্রায় সবারই এ সমস্যা হয়েছে, তখন বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। তবে মেয়েপক্ষেরও ৫-৬ জন লোক অসুস্থ হয়েছে বলে শুনেছি।’ তিনি বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে তাঁরা ১৫০ জনের মতো অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ১২০ জনই অসুস্থ হয়েছেন। দাওয়াতে অংশ নেওয়া সবাই গরুর মাংস খেয়ে অসুস্থ হয়েছেন। তিনিসহ যাঁরা গরুর মাংস খাননি, তাঁদের কোনো সমস্যা হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা উৎপল দাশ বলেন, বিয়েবাড়িতে দাওয়াত খেয়ে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সবাই খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে বমি ও পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টরসহ একজন স্বাস্থ্য সহকারীকে ওই বাড়িতে পাঠিয়ে বিষয়টি তদন্ত করছেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অনেকেরই অবস্থা বর্তমানে ভালো। কয়েকজনকে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তাঁরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন