default-image

সৌদি আরবের রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের দিলালপুর গ্রামের মোশারফ হোসেনের (২৮) বাড়িতে চলছে মাতম। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী, বাবা–মা। শোকাহত স্বজনেরা নিহত মোশারফের লাশের অপেক্ষায় রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সৌদি সময় সন্ধ্যা ৬টায় মালিককে নিয়ে প্রাইভেটকারে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা লরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে মালিক প্রাণে বেঁচে গেলেও ঘটনাস্থলেই মারা যান গাড়িচালক মোশারফ।

বিজ্ঞাপন

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দিলালপুর গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে মোশারফ সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে প্রায় আড়াই বছর আগে ধার-দেনা করে সৌদি আরবে যান। মোশারফ ছিলেন তাঁদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তাঁর মৃত্যুতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বাবা, মা, স্ত্রী ও একমাত্র সন্তান মুজাহিদের ভবিষ্যৎ।

শুক্রবার দুপুরে মোশারফের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, তাঁর স্ত্রী, মা, বাবা ও আত্মীয়স্বজনের হৃদয়বিদারক আহাজারি। মোশারফ নিহত হওয়ার খবরে তাঁর বাড়িতে এসে ভিড় করেছেন পাড়া-প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন।

মোশারফের বৃদ্ধ বাবা মোবারক হোসেন জানান, ‘সংসারে সচ্ছলতা আনতে প্রায় আড়াই বছর আগে মোশারফ সৌদি আরবে যায়। দুই মাস আগে সব দেনা শোধ হয়েছে। পরিবারে সচ্ছলতা আসার আগেই আমার ছেলে মারা গেছে। আমি লাশ ফেরত চাই।’

বিজ্ঞাপন

নিহতের ভগ্নিপতি মনির হোসেন বলেন, লাশ দেশে আনার জন্য সৌদি আরবে আইনি প্রক্রিয়া চলছে। পরিবারের শেষ ইচ্ছা, দেশে এনে যেন মোশারফের লাশ দাফন করা হয়।
দিলালপুর গ্রামের ইউপি সদস্য ইদ্রিস মিয়া বলেন, মোশারফের মৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি খুবই বিনয়ী ও ভদ্র ছিলেন। তাঁরা চান দ্রুত তাঁর লাশ দেশে আসুক।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন