বিজ্ঞাপন

মৌলভীবাজারের শতাধিক পরিবার আজ ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন। সকাল সাতটায় মৌলভীবাজার শহরের সার্কিট হাউস এলাকার আহমেদ শাবিস্তা নামের বাসার ছাদে ঈদের এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন আবদুল মাওফিক চৌধুরী। নামাজ শেষে দেশ-জাতিসহ ফিলিস্তিনের মুসলমানের জন্য মোনাজাত করা হয়। নামাজে অংশ নেওয়া মাজেদুল হক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে নামাজ আদায় করছেন।

default-image

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে আজ সকাল আটটার দিকে দক্ষিণ বলারদিয়ার জামে মসজিদ ঈদগাহ মাঠে ১৩টি গ্রামের মানুষ ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন। দক্ষিণ বলারদিয়ার জামে মসজিদ মাঠে সকাল আটটায় মাওলানা আজিম উদ্দিন ঈদুল ফিতরের নামাজে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বলারদিয়ার গ্রামের শাহা আলী (৬৪) বলেন, ‘১৬ বছর ধরে আমরা ১৩ গ্রামের মুসল্লিরা একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছি।’ দাশেরবাড়ি গ্রামের রকিব উদ্দিন (৬৫) বলেন, ‘মধ্য প্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে আমরা ১৬ বছর ধরে ঈদের নামাজ আদায় করি।’

লক্ষ্মীপুরের ১১টি গ্রামে আজ ঈদ উদ্‌যাপিত হচ্ছে। আজ সকাল সাতটায় রামগঞ্জ পৌরসভার শিশুপার্ক–সংলগ্ন খানকা মাদানিয়া কাছিমিয়া ঈদগাহ জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের প্রথম নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। রামগঞ্জ পৌরসভার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আকবর হোসেন বলেন, তাঁরা মাওলানা ইসহাকের অনুসারী। ৪২ বছর ধরে তাঁরা সৌদির সঙ্গে মিল রেখে সব ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করছেন।

পিরোজপুর মঠবাড়িয়া, নাজিরপুর ও কাউখালী উপজেলার আট গ্রামের ৭০০ পরিবার আজ ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করছে। সকাল নয়টায় সাপলেজা ইউনিয়নের ভাইজোড়া গ্রামের খোন্দকারবাড়িতে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সময় কচুবাড়িয়া গ্রামের হাজী ওয়াহেদ আলী হাওলাদারবাড়িতে ঈদের একটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন যথাক্রমে মৌলভি হায়দার আলী ও আমির আলী মুন্সী। সুরেশ্বর পীরের অনুসারী কচুবাড়িয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ফরহাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রেখেছি এবং আজ সৌদি আরবের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করছি।’ শেখমাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, ১২ বছর ধরে আহলে হাদিসের অনুসারী শেখ মাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাবুল খান ও তাঁর অনুসারী দুই গ্রামের ৭০টি পরিবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখা ও ঈদ উদ্‌যাপন করে আসছে।

default-image

চাঁদপুরের পাঁচ উপজেলার অন্তত ৩৫ গ্রামের অধিকাংশ মুসল্লি আজ ঈদ উদ্‌যাপন করছেন। এসব গ্রামে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। হাজীগঞ্জের ঐতিহাসিক সাদ্রা দরবার শরিফের পীর মরহুম মাওলানা ইসহাক ১৯৩১ সাল থেকে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে এক দিন আগে দেশে দুই ঈদসহ ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান উদ্‌যাপনের রীতি চালু করেন। বর্তমানে তাঁর অনুসারী চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ ১০টি গ্রাম, হাজীগঞ্জের ৮টি গ্রাম, মতলব উত্তরের ৯টি গ্রাম, কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার কয়েকটি গ্রামের অর্ধলক্ষ মুসল্লি সৌদির সঙ্গে মিল রেখে সব করেন।

সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ধরমপাশা উত্তরপাড়া গ্রামের সুরেশ্বর দরবার শরিফের খানকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ সকাল নয়টার দিকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরিফের ধরমপাশা উপজেলার অনুসারীরা সাত বছর ধরে এভাবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করে আসছেন। নামাজে ইমামতি করেন ইমাম মো. বাবুল মিয়া।

মাদারীপুরের চারটি উপজেলার ২৫ গ্রামের মানুষ আজ ঈদ উদ্‌যাপন করছেন। জেলার বেশ কয়েকটি স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হলেও প্রধান ও বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে সদর উপজেলার তাল্লুক গ্রামের চরকালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। তাল্লুক গ্রামে ঈদের জামাত শেষে ইমাম আবদুল হাশেম ফকির বলেন, ‘দেশ ও জাতির কল্যাণে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে একযোগে ঈদের নামাজ আদায় করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।’ সুরেশ্বর দায়রা শরিফের প্রতিষ্ঠাতা হজরত জান শরিফ শাহ সুরেশ্বরীর (রা.) অনুসারীরা প্রায় দেড় শ বছর আগে থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদ্‌যাপন করেন।

default-image

শেরপুরের তিন উপজেলার ছয় গ্রামের মানুষ আজ ঈদ উদ্‌যাপন করছেন। এসব গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ আজ সকালে ঈদের নামাজ আদায় করেন। স্থানীয় ও জনপ্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে এসব গ্রামে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। বেতমারী-ঘুঘুরাকান্দি ইউপির চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, চরখারচর মধ্যপাড়া সুরেশ্বর জিকিরঘর ও উত্তরপাড়া সুরেশ্বর খানকাহ শরিফে প্রায় ৫০০ মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেন। এই দুই স্থানের নামাজে ইমামতি করেন যথাক্রমে মো. জুলহাস উদ্দিন ও মো. আনোয়ার হোসেন। এসব গ্রামের মানুষ দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদ্‌যাপন করে আসছেন। তাঁরা ফরিদপুরের সুরেশ্বর পীরের অনুসারী বলে জানান তিনি।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় হজরত শাহ্ সুফি মমতাজিয়া এতিমখানা ও হেফজখানা মাদ্রাসায় ‘জাহাগিরিয়া তরিকার’ অনুসারীরা ঈদের নামাজ আদায় করেন। জামাতে ইমামের দায়িত্ব পালন করেন মুফতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন শুভ। জামাতে অংশ নিতে গাজীপুরের টঙ্গী, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, পুরান ঢাকা, ডেমরা, সাভার ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ, বন্দর ও সোনারগাঁ উপজেলা থেকে মুসল্লিরা অংশ নেন। নামাজ শেষে করোনা মহামারি থেকে বাঁচতে ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

default-image

দিনাজপু‌রের কয়েকটি স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করে‌ছেন মুসল্লিরা। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির একটি কমিউনিটি সেন্টারে নারী-পুরুষসহ তিন শতাধিক মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেন। এই জামাতে ইমাম হি‌সেবে দা‌য়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। এ ছাড়া দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার সাইতাড়া, বিরল উপজেলার বালান্দরপুর ও কামদেবপুর কাজীপাড়া, কাহারোল উপজেলার জয়নন্দ, গড়েয়াসহ কয়েকটি স্থানে মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন। ২০১৩ সাল থেকে তাঁরা সৌদির সঙ্গে মিল রেখে নামাজ আদায় করছেন।

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সদর উপজেলার তিনটি গ্রামের কয়েকটি এলাকার বাসিন্দারা আজ ঈদ উদ্‌যাপন করছেন। বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদার প্রথম আলোকে বলেন, বেগমগঞ্জের দুটি জায়গায় সকাল সাড়ে আটটায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুটি এলাকাতেই মুসল্লিরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের জামাতে অংশ নেন।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১৩ গ্রামে আজ ঈদ। আজ সকাল ৯টায় উপজেলার শেখর ইউনিয়নের মাইটকুমড়া জামে মসজিদ, ১০টায় রাখালতলী জামে মসজিদ ও রূপাপাত ইউনিয়নের সহস্রাইল দায়রা শরিফে ঈদুল ফিতরের তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি জায়গায় সহস্রাধিক মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করেন।

default-image

বরিশালের কয়েক হাজার পরিবার আজ ঈদ উদযাপন করছে। সকাল ৯টায় বরিশাল নগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে হরিনাফুলিয়া চৌধুরী বাড়ি শাহ-মমতাজিয়া জামে মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সাগরদী মৃধাবাড়ি শাহ সুফি মমতাজিয়া জামে মসজিদ, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে হরিনাফুলিয়া চৌধুরী বাড়ি শাহ-মমতাজিয়া জামে মসজিদ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে জিয়া সড়ক শাহ সুফি মমতাজিয়া জামে মসজিদে পৃথক জামাতে কয়েক হাজার মুসল্লি ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার আজ ঈদ উদ্‌যাপন করেছেন। তাঁরা কাদরিয়া চিশতিয়া তরিকতের অনুসারী। উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের উত্তর নিশানবাড়িয়া জাহাগিরিয়া শাহ সুফি মমতাজিয়া দরবার শরিফ প্রাঙ্গণে এই অনুসারীদের ঈদের নামাজের প্রধান জামাত আজ সকাল নয়টায় অনুষ্ঠিত হয়। হাফেজ মোহাম্মদ আরিফ এতে ইমামতি করেন।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ জাহাঁগিরিয়া শাহ সুফি মমতাজিয়া দরবার শরিফের অনুসারীরা আজ চন্দনাইশ, পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৬০ গ্রামে ঈদ উদ্‌যাপন করছেন। আজ সকাল ৯টায় চন্দনাইশ হজরত শাহ সুফি মমতাজিয়া জামে মসজিদ এবং শাহ সুফি মমতাজিয়া খানেকা শরিফে পৃথক দুটি ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে অনুষ্ঠিত হয়।

default-image

শরীয়তপুরের সুরেশ্বর দরবার শরিফের ভক্ত ও অনুসারীরা আজ ঈদ উদ্‌যাপন করেছেন। জেলার অন্তত ২০টি গ্রামে কয়েক হাজার মানুষ আজ ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপন করছেন। সুরেশ্বর দরবার শরিফের পীর শাহ নূরে কামাল সুরেশ্বরী বলেন, ‘সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখি ও ঈদ পালন করে থাকি। তাই আজ ঈদুল ফিতর পালন করেছি। সকাল সাড়ে ৯টায় দরবার শরিফ প্রাঙ্গণে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়।’

ফরিদপুরের বাবা সুরেশ্বরী দরবার শরিফ ও চট্টগ্রামের সাতকানিয়া মির্জাখালী দরবার শরিফের প্রায় ৩ হাজার অনুসারী ভোলায় আজ ঈদ উদ্‌যাপন করছেন। তাঁদের বাড়ি ভোলার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মুলাইপত্তন গ্রামে এই অনুসারীদের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তাঁরা মহামারি করোনার হাত থেকে মুক্তির জন্য প্রার্থনা করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন