default-image

মাদারীপুরের রাজৈরে ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তারই প্রতিবেশী এক যুবকের বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার রাত দুইটার দিকে ওই ছাত্রীকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন তার পরিবারের লোকজন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মেয়েটির বাবা আজ শনিবার বিকেলে রাজৈর থানায় বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। এতে চিরঞ্জিত মোড়ল (২৮) নামের একজনকে প্রধান আসামি করে মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত চিরঞ্জিত পলাতক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়নের একটি গ্রামে ১২ এপ্রিল রাতে কৌশলে ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যান চিরঞ্জিত মোড়ল। পরে একটি ঘরে আটকে রেখে ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করেন চিরঞ্জিত। এ সময় তাকে মারধরও করা হয়। বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে কিশোরীর মুখ ও হাত-পা বেঁধে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশে পুকুর পাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ছাত্রীর ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে প্রতিবেশী ও পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে চিরঞ্জিত ও তাঁর সহযোগীরা পালিয়ে যান। পরে গুরুতর অবস্থায় ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে রাত দুইটার দিকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মামলায় চিরঞ্জিত মোড়ল (২৮) নামের একজনকে প্রধান আসামি করে মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত চিরঞ্জিত পলাতক।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘রাতে এক স্কুলছাত্রীকে তার পরিবারের লোকজন হাসপাতালে নিয়ে আসেন। মেয়েটি তখন খুবই দুর্বল ছিল। প্রাথমিকভাবে আমরা তাকে সব ধরনের চিকিৎসা দিয়েছি। পরে আজ সকালে হাসপাতালে গাইনি চিকিৎসক তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এখন সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

বিজ্ঞাপন
জিডি করার পরে শুনি প্রতিবেশী চিরঞ্জিত আমার মেয়েকে ছয় দিন ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে হত্যার চেষ্টাও করে। আমি তার কঠোর বিচার চাই।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা

ওই ছাত্রীর মা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মেয়েকে অপহরণ করার পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করি। কোথাও না পেয়ে পুলিশের কাছে সহযোগিতা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। পরে শুনি প্রতিবেশী চিরঞ্জিত আমার মেয়েকে ছয় দিন ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে হত্যার চেষ্টাও করে। আমার ছোট্ট মেয়েটার সঙ্গে যে এমন কাজ করেছে, আমি তার কঠোর বিচার চাই।’

আমার ছেলে এমন কোনো ঘটনা ঘটায় নাই। ওদের সঙ্গে আমাদের জমিজমা নিয়ে মামলা চলছে। আমাদের চাপে রাখার জন্য এমন সাজানো ঘটনা দিয়ে আমাদের ফাঁসানো হচ্ছে।
কৃষ্ণ মোড়ল, প্রধান আসামির বাবা

তবে চিরঞ্জিতের বাবা কৃষ্ণ মোড়ল প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, ‘আমার ছেলে এমন কোনো ঘটনা ঘটায় নাই। ওদের সঙ্গে আমাদের জমিজমা নিয়ে মামলা চলছে। আমাদের চাপে রাখার জন্য এমন সাজানো ঘটনা দিয়ে আমাদের ফাঁসানো হচ্ছে। আমরা পুলিশকে সব জানিয়েছি। আশা করছি, পুলিশ তদন্ত করে সত্য বের করবে।’

রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাদিক বলেন, ‘স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনাটি আমরা ১৫ এপ্রিল জানতে পারি। ওই দিন থানায় একটি জিডিও হয়। তখন থেকেই পুলিশ তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছিল। ভুক্তভোগী ওই পরিবারের ভাষ্য, চিরঞ্জিত নামে প্রতিবেশী এক যুবক তাঁদের মেয়েকে ছয় দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করেন। তাঁরা থানায় চারজনকে আসামি করে একটি এজাহার দিয়েছেন। আমরা তাঁদের মামলা নিয়েছি। এখন তাঁদের অভিযোগ আমরা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন