হযরত আলী যে স্কুলে পাঠদান করতেন, তা নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ২০০৫ সালে। রংপুর নগরের রামপুরা এলাকায়। স্কুলের নাম রেখেছিলেন ফাতাহ কিন্ডারগার্টেন। শিক্ষার্থী ছিল প্রায় ২০০। করোনা পরিস্থিতিতে গত বছর থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়। হযরত আলী হয়ে পড়েন বেকার। স্নাতক পড়ুয়া এক মেয়ে, গৃহিণী স্ত্রীসহ তিন সদস্যের পরিবারে এরপরই দেখা দেয় আর্থিক সংকট। কিছুদিন বেকার থাকার পর আবারও স্কুলে ফেরেন হযরত। বিক্রি করে দেন স্কুল প্রাঙ্গণে লাগানো গাছ।

করোনাকালে এক কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষক বেকার হয়ে পড়ায় নার্সারি দিয়েছেন। সে আয়ে তাঁর সংসার চলছে।

অন্য কোনো পেশায় যাবেন কি না, সুযোগ কীভাবে মিলবে—নানা কিছু ভাবতে ভাবতে বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রির ঘটনাই মাথায় আসে তাঁর। রংপুর নগরের সার্কিট হাউস সড়কের পাশে খালি জায়গা অল্প কিছু টাকায় ভাড়া নিয়ে শুরু করেন নার্সারি। নাম দিয়েছেন রিসালাত ছাদবাগান নার্সারি। আর এই নার্সারিতে গাছ কিনতে আসছেন বৃক্ষপ্রেমীরা। এমন একজনের মাধ্যমেই হযরত আলীর সম্পর্কে জানতে পারেন এই প্রতিবেদক।

সম্প্রতি শহরের সার্কিট হাউস সড়কের পাশে কটকিপাড়া এলাকায় এই প্রতিবেদক যখন রিসালাত ছাদবাগান নার্সারিতে যান, তখন গাছের সারি ঠিক করছিলেন হযরত আলী। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্কুল প্রাঙ্গণের যে গাছগুলো বিক্রি করেছেন, সেগুলো শখ করে লাগিয়েছিলেন। বেকার থাকার চেয়ে গাছের চারা রোপণ করে তা বিক্রির বিষয়টি তাঁর মনে ধরে। তাই এ কাজেই নেমে যান। শুরুতে আয় তেমন না হলেও এখন মাস শেষে প্রায় ১৫ হাজার টাকা পান। তা দিয়েই সংসার চলছে।

হযরত আলী বলেন, কোনো রকমে সংসার চালিয়ে নিচ্ছেন। মধ্যবিত্ত জীবনে টিকে থাকতে অনেক কিছুই করতে হয়। আবার নিজে কিছু করার আনন্দটাও উপভোগ্য লাগে।