স্কুলশিক্ষক রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায়, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন

স্কুলশিক্ষক কবির উদ্দিন আহমদের রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকার ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে জুড়ী উপজেলার বিজিবি ক্যাম্প চত্বর এলাকায়
ছবি: প্রথম আলো

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার স্কুলশিক্ষক কবির উদ্দিন আহমদের (৪৮) রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকার ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার বিজিবি ক্যাম্প চত্বর এলাকায় মানববন্ধন করে এ দাবি জানিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি।

কবির উদ্দিন আহমেদ জুড়ী সরকারি মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক। তাঁর বাড়ি জুড়ী সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ জাঙ্গিরাই এলাকায়।
মানববন্ধনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন অংশ নেন। সংগঠনটির সভাপতি স্থানীয় মক্তদীর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসহাক আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাস, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল ইসলাম, জায়ফরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মামুনুর রশীদ, জুড়ী মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিতাংশু শেখর দাস, শিক্ষক কবিরের বড় ভাই মো. নূরুজ্জামান প্রমুখ। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখরুল ইসলাম।

২৮ আগস্ট দুপুরে জুড়ী থেকে একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় কুলাউড়া উপজেলা সদরের উদ্দেশে রওনা দেন শিক্ষক কবির উদ্দিন। বেলা সোয়া একটার দিকে জুড়ী-কুলাউড়া সড়কের কুলাউড়া উপজেলার রামপাশা এলাকায় সড়কের পাশে তাঁকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তাঁকে উদ্ধার করে কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে সিলেট নগরে অবস্থিত একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। কবির আহমদের পাঁজরের দুটি ও ঊরুর একটি হাড় ভেঙে গেছে। মাথায়ও আঘাত পেয়েছেন তিনি।

বক্তারা বলেন, শিক্ষক কবির উদ্দিন অটোরিকশার চালকের ডান পাশে বসা ছিলেন। বিপরীতমুখী আরেকটি অটোরিকশার ধাক্কায় তিনি গাড়ি থেকে ছিটকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথচ এখন পর্যন্ত দুই অটোরিকশাচালককে শনাক্ত করতে না পারাটা দুঃখজনক।

কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফখরুজ্জামান বলেন, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিভিন্ন অটোরিকশার স্ট্যান্ডে তাঁরা লোক লাগিয়েছেন। কিন্তু সুনির্দিষ্টভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষদর্শীও নেই। এরপরও তাঁরা তথ্য উদঘাটনে তৎপর আছেন।

আজ প্রথম আলোয় ‘রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কের পাশে পড়ে ছিলেন তিনি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।