বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্বপ্নিল তার মায়ের সঙ্গে গ্রামের বাড়ি বরগুনার বামনা উপজেলার লক্ষ্মীপুরা গ্রামে বেড়াতে যাওয়ার পথে অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিখোঁজ হয়। সঙ্গে ছোট ভাই প্রত্যয়ও ছিল। স্বপ্নিল ঢাকা উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা সঞ্জীব হাওলাদার ঢাকায় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সেই সূত্রে তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। স্কুল বন্ধ থাকার সুযোগে দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন সঞ্জীব হাওলাদারের স্ত্রী গীতা রানী। লঞ্চে আগুন লাগার আগমুহূর্তে স্বপ্নিল শৌচাগারে ছিল। সেখান থেকে সে নিখোঁজ হয়। পরে দিয়াকুল গ্রামের মানুষ লঞ্চ থেকে মা গীতা রানী ও ছোট ছেলে প্রত্যয়কে উদ্ধার করলেও স্বপ্নিলের ঠাঁই হয় হাসপাতালের মর্গে। লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে বাবা সঞ্জীব হাওলাদার ঢাকা থেকে ঝালকাঠিতে ছুটে আসেন।

লঞ্চে আগুন লাগার আগমুহূর্তে স্বপ্নিল শৌচাগারে ছিল। সেখান থেকে সে নিখোঁজ হয়।
default-image

গতকাল স্বপ্নিলের মা গীতা রানী আহাজারি করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘লঞ্চে আগুন লাগার পাঁচ মিনিট আগে আমার ছেলে টয়লেটে যাইয়া নিখোঁজ হয়। আমার কইলজার টুকরারে ছাড়াই লঞ্চ থেকে নাইমা আইছি।’

স্বপ্নিলের ফুফা মনোরঞ্জন সিকদার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, স্বপ্নিলের মৃতদেহ বাড়িতে সৎকার করা হয়েছে। ছেলেকে হারিয়ে স্বপ্নিলের মা-বাবা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এই ছেলেকে মানুষ করতেই তার বাবা চাকরি নিয়ে ঢাকার বাসায় ওঠেন।

গতকাল প্রথম আলোর অনলাইনে ‘সন্তানদের খুঁজে না পেয়ে পাগলপ্রায় দুই মা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। অন্যজন ২ বছরের শিশু তাবাচ্ছুমের লাশেরও সন্ধান পাওয়া গেছে।

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় শতাধিক যাত্রী দগ্ধ অবস্থায় বরিশাল ও ঝালকাঠিতে চিকিৎসাধীন আছেন। বৃদ্ধ, শিশুসহ নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে। লঞ্চটিতে আট শতাধিক যাত্রী ছিলেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন