বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সকালে সরেজমিনে শহরের এম এ রশিদ বালিকা বিদ্যালয়, লক্ষ্মীনারায়ণপুর পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নোয়াখালী জিলা স্কুল ও নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে দেখা যায়, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফটকে কোথাও শিক্ষক, আবার কোথাও নিরাপত্তাপ্রহরী শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মেপে ভেতরে যেতে দিচ্ছেন।

বিদ্যালয়গুলোর ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শিক্ষার্থীরা বসেছে। হাত ধোয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে সবখানে। ছিল হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়া শিক্ষার্থীর জন্য আইসোলেশন কক্ষও। কোনো শিক্ষার্থী মাস্ক পরে না এলে তাকে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মাস্ক পরিয়ে দিতে দেখা যায়। তবে প্রথম দিন দুপুরে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায়নি।

সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের লক্ষ্মীরায়ণপুর পৌর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক মো. সামছুদ্দিন বিদ্যালয়ের ফটকে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করছেন। কারও মুখে মাস্ক না থাকলে তাকে মাস্ক পরিয়ে দিচ্ছেন শিক্ষকেরা। বিদ্যালয়ের ফটক ও শ্রেণিকক্ষগুলো সাজানো হয়েছে বেলুন দিয়ে। নতুন সাজে প্রাণের প্রতিষ্ঠানকে সাজতে দেখে খুদে শিক্ষার্থীরাও উচ্ছ্বসিত। শ্রেণিকক্ষে ঢুকেই সহপাঠীদের সঙ্গে গল্পে মেতে উঠতে দেখা যায় কোনো কোনো শিক্ষার্থীকে।

এর আগে সকাল সাতটায় নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তখনো বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক খোলেনি। অভিভাবকদের সঙ্গে বাইরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রত্যাশা দাস ও সাজিয়া বিনতে হোসাইন। তারা এসেছে শহরের মাইজদীবাজার এলাকা থেকে। দুজনই জানায়, ভর্তির পর তারা কখনো ক্লাস করার সুযোগ পায়নি। তাই আজ প্রথম ক্লাস হবে ভেবে তাদের খুব আনন্দ লাগছে।

default-image

সকাল ১০টায় নোয়াখালী জিলা স্কুলের ফটকের বাইরে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের তাপমাত্রা মেপে ভেতরে আসতে দিচ্ছেন নিরাপত্তাপ্রহরী। শ্রেণিকক্ষে গিয়ে চোখে পড়ে শিক্ষার্থীদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস। অবশ্য স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কোনো কোনো শিক্ষার্থী।

ওই বিদ্যালয়ে কথা হয় ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী মোক্তাদিউল বিন ইসলামের সঙ্গে। প্রথম আলোকে সে জানায়, করোনা মহামারির মধ্যে স্কুলে আসতে হয়েছে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার জন্য। তখন অনেক খারাপ লাগত ক্লাস না করতে পারার কারণে। অনেক দিন পরে শ্রেণিকক্ষে ফিরে খুবই ভালো লাগছে। তবে সবকিছুই নতুন লাগছে।

কথা হয় অভিভাবক জান্নাতুল ফেরদাউসের সঙ্গে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, তাঁর ছেলে এসএসসি পরীক্ষার্থী। করোনার পর প্রথম স্কুল খুলেছে, তাই নিজেই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। মহামারির ভয় কাটিয়ে ছেলেকে স্কুলে নিয়ে আসতে পেরে অনেক ভালো লাগছে বলে জানান তিনি।

করোনাকালে নানা নিয়মের মধ্যে বিদ্যালয় চালু করার বিষয়ে জানতে চাইলে জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক নূর উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ ভালোভাবে তাঁরা পাঠদান শুরু করতে পেরেছেন। প্রথম দিন ২০২১ ও ২২ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী, পঞ্চম শ্রেণি ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান করা হয়।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান। প্রথম আলোকে তিনি জানান, সকাল থেকে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তিনি ঘুরে দেখেছেন। সব স্কুলেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে অত্যন্ত সুন্দরভাবে পাঠদান চলছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও ভালো। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি নির্দেশনা মানার বিষয়টি নিয়মিত তদারক করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন