বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলে, ‘বহুদিন পর স্কুলে এসে খুবই ভালো লাগছে। বন্ধু ও স্যারদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা ক্লাস করেছি।’

সারা দেশের মতো গাজীপুরেও স্কুল ও কলেজ খুলেছে। সকালেই পরিপাটি স্কুল পোশাক পরা শিশুদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণ। স্কুলের ফটকে শিক্ষকেরা অভ্যর্থনা জানান শিক্ষার্থীদের। স্কুলটি সাজানো হয় বাহারি সাজে।
শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের স্টাফরা থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে শিশুদের জ্বর পরীক্ষা করেন। জীবাণুনাশক দিয়ে হাত পরিষ্কার করা হয়। মুখে মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করে স্কুলের আঙিনায় ঢুকতে দেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের।

default-image

ভাউমান গ্রামের বাসিন্দা ও শিশুর অভিভাবক আজহারুল ইসলাম বলেন, স্কুল বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে চায়। তাই শিক্ষকদের সহযোগিতা নিয়ে শনিবার এক দিনের মধ্যেই স্কুলের সামনে বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়।
টালাবহ গ্রামের বাসিন্দা আ. বাছেদ মিয়া বলেন, ‘আমাগো পোলাপাইন স্কুলে যাওয়ার জন্য পাগল হয়ে আছে। এত দিন পর স্কুল খুলছে, অথচ বন্যার পানির কারণে স্কুলে যেতে পারবে না, এইটা কি হইতে পারে। তাই সবার উদ্যোগে সাঁকো বানানো হয়।’

ভাউমান টালাবহ মডেল হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. হারেজ আলী বলেন, ‘শিক্ষা কর্মকর্তা প্রথমে স্কুল বন্ধ রাখতে বলেছিলেন। কিন্তু তাঁকে আমরা কথা দিয়েছিলাম, এক দিনে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে স্কুলে ক্লাস করতে পারব। কারণ, শিক্ষার্থীদের যেমন স্কুলের আসার আগ্রহ আছে, শিক্ষকদের একই রকম আগ্রহ। তাই ২৪ হাজার টাকা খরচ করে অভিভাবকদের নিয়ে ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে রোববার সারা দেশের মতো আমরাও শতভাগ করোনা সুরক্ষা নিশ্চিত করে ক্লাস নিয়েছি।’

বাঁশতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাংগুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস হয়েছে।

বাঁশতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠে পানি থাকলেও শ্রেণিকক্ষে পানি ঢোকেনি। এ কারণে পাঠদানে কোনো সমস্যা হয়নি। শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে মুখিয়ে ছিল। আমরাও বসে থাকতে পারছি না। তাই শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের পাঠদান করেছি।’

এদিকে স্কুলের প্রাঙ্গণে বন্যার পানি কারণে কালিয়াকৈর উপজেলার ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলেনি। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো উত্তর রাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহাদুরপুর, বাসুরা, মুদিপাড়া, কাঞ্চনপুর, ঢালজোড়া, বাংগুরী, চৌধুরীরটেক, দেওয়াইর, সেওড়াতলী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাদুল্যাপুর, সেওড়াতলী বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হেলেনা জব্বার কুন্দাঘাটা, চাপাইর পূর্ব, কালিয়াকৈর, কাঁঠালতলী, টালাবহ ও বারবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

কালিয়াকৈর প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমিতা ইসলাম বলেন, ‘বন্যার পানির কারণে ২০টি বিদ্যালয়ে ক্লাস নিতে নিষেধ করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু স্কুলের পানি কমে গেছে। এ কারণে দুটি বিদ্যালয়ে ক্লাস নিয়েছে। বিদ্যালয়গুলো স্বাস্থ্যবিধি মানছে কি না, তা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন