বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আদালত ও মামলার নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১৫ মে কুমিল্লার দেবীদ্বারের ছোট শালঘর গ্রামের তারু মিয়ার মেয়ে খাদিজা আক্তারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে হুমায়ূন কবিরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর খাদিজা একটি মেয়ে ও একটি ছেলেসন্তানের জন্ম দেন। তিন-চার মাস আগে হুমায়ূন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানায় সহকারী উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সাত-আট মাস আগে থেকে পদোন্নতির জন্য শ্বশুর-শাশুড়ির কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা না দিলে আরেকটি বিয়ে করবেন বলে শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে হুমকি দেন।

মামলা সূত্রে আরও জানা যায়, গত বছরের ২১ ডিসেম্বর মেয়ে বাবা হুমায়ূন কবিরের মুঠোফোনে গেমস খেলছিল। এ সময় মুঠোফোনে তাঁর সঙ্গে অন্য আরেকটি মেয়ের অন্তরঙ্গ ছবি দেখতে পেয়ে মাকে দেখায় মেয়ে। খাদিজা এ বিষয়ে স্বামীর কাছে জানতে চান। তখন বাবার বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকা এনে না দিলে মুঠোফোনের ছবিতে থাকা মেয়েটিকে বিয়ে করবেন বলে হুমকি দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান হুমায়ূন। এরপর একাধিকবার চেষ্টা করলেও হুমায়ূন আর স্ত্রীর ফোন ধরেননি। এ ঘটনায় স্ত্রী খাদিজা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে সেখানে আলোচনা সাপেক্ষে স্বামী-স্ত্রীকে মিলিয়ে দেওয়া হয়।

বাদীর আইনজীবী বলেন, ওই ঘটনার পর খাদিজার মা আমেনা বেগম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের পশ্চিম মেড্ডায় বেড়াতে আসেন। গত ৪ মার্চ হুমায়ূন মামাশ্বশুর মো.ওয়ালিউল্লাহ ও স্ত্রীর বড় ভাই কাওসার মিয়ার সামনে শাশুড়ির কাছে নিজের পদোন্নতির জন্য পুনরায় ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। সেই টাকা দিতে অপরাগতা জানালে হুমায়ূন তাঁর স্ত্রী খাদিজার সঙ্গে সংসার করবেন না বলে বাসা থেকে বের হয়ে যান। এরপর হুমায়ূন আর স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি।

যৌতুক দাবির এসব ঘটনায় এএসআই হুমায়ূনকে আসামি করে খাদিজা বাদী হয়ে ১১ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে একটি মামলা করেন। পরে আদালত পুলিশের ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। বৃহস্পতিবার আদালতে জামিন আবেদনে নিয়ে হাজির হন হুমায়ূন। আদালত তাঁকে জামিন না দিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন