জাজিরা থানা সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে লিমা আক্তারের সঙ্গে জাজিরার চৌকিদারকান্দি গ্রামের পারভেজ খালাসীর বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে পারভেজ ও তাঁর পরিবারকে এক লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার দেওয়া হয়। কিছুদিন পর বাবার বাড়ি থেকে আরও টাকা আনতে লিমাকে চাপ দিতে থাকেন পারভেজ। টাকা আনতে রাজি না হওয়ায় প্রায়ই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা লিমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। গত সপ্তাহে দুই লাখ টাকা এনে দিতে লিমাকে চাপ দেন পারভেজ। টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানান লিমা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

পুলিশ আরও জানায়, মঙ্গলবার সকালে লিমার মা জাবেদা মেয়ের স্বামীর বাড়িতে আসেন। শাশুড়ির সামনেই সকাল নয়টার দিকে ওই টাকার প্রসঙ্গ নিয়ে লিমার সঙ্গে ঝগড়ায় জড়ান পারভেজ। বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে লিমাকে মারপিট শুরু করেন তিনি। এ সময় জাবেদা খাতুন প্রতিবাদ করলে তাঁকেও লাঠি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। স্বজনেরা আহত লিমা ও তাঁর মা জাবেদাকে উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় চিকিৎসকেরা জাবেদাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন লিমা।

জাবেদা খাতুনের স্বামী বাচ্চু দেওয়ান বলেন, ‘মেয়ের সন্তান দেখতে গিয়ে আমার স্ত্রীকে লাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে। পাষণ্ড পারভেজ আমার মেয়েকে নিয়মিত মারধর করত। ওর মায়ের অনুরোধে মেয়ে সংসার ভাঙেনি। মুখ বুজে সব সহ্য করেছে। আজ তাকেই কসাই জামাইয়ের হাতে প্রাণ দিতে হলো।’

ঘটনার পরপরই পারভেজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা গ্রাম থেকে পালিয়েছেন। তাঁদের বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। আত্মীয়স্বজনেরা এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি। জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিন্টু মণ্ডল বলেন, এলোপাতাড়ি পেটানোর কারণে লিমার মায়ের মুত্যু হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পারভেজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন