স্থলবন্দরগুলো দিয়ে পেঁয়াজ আসা বন্ধ

পেঁয়াজের হাট।
পেঁয়াজের হাট।ফাইল ছবি
বিজ্ঞাপন

ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় স্থলবন্দরগুলো দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আসা বন্ধ রয়েছে। ফলে বন্দরের ওপারে পেঁয়াজ নিয়ে শত শত ট্রাক ও ওয়াগনযুক্ত ট্রেন আটকে থাকার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কোনো রকম পূর্বঘোষণা ছাড়াই ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দেশের আমদানিকারকেরা। দিন গড়ালে সে পেঁয়াজ যে সীমান্তের ওপারে রাস্তাতেই পচবে, সে কথা জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।

সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দর দিয়ে দুই দিন ধরে ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানি হচ্ছে না। গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবার ভারতীয় কোনো পেঁয়াজের ট্রাক ভোমরা স্থলবন্দরে ঢোকেনি। তবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ হলেও অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রাক ভারত থেকে ভোমরা বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে।

সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই সোমবার থেকে হঠাৎ করেই পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার। ভারতীয় ঘোজাডাঙ্গা কাস্টমস ও সিঅ্যান্ডএফ ওয়েলফেয়ার কর্তৃপক্ষ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রাখার ব্যাপারে ভোমরা কাস্টমস ও সিঅ্যান্ডএফ নেতাদের লিখিতভাবে জানায়নি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মোস্তাফিজুর রহমান আরও জানান, ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় রপ্তানিকারকেরা প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ ২৫০ থেকে ৩০০ ডলারে রপ্তানি করছিলেন। কিন্তু ভারতে পেঁয়াজের মূল্য দ্বিগুণের বেশি হয়ে যাওয়ায় ওই মূল্যে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছেন তাঁরা। ভারতের বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন এলসি মূল্য নির্ধারণ করার জন্যই পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভারতের ব্যবসায়ীরা ওই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ ৭৫০ ডলার নির্ধারণ করার জন্য প্রস্তাব করেছেন।

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকেরা ১০ হাজার টনের মতো পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি করেছেন। ভারতীয় তিন শতাধিক ট্রাক পেঁয়াজ নিয়ে আটকে পড়েছে রাস্তায়। এসব পেঁয়াজ প্রবেশ করতে না পারলে সেগুলোতে পচন ধরবে। ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হবে। অন্তত এলসি করা পেঁয়াজগুলো আনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

ভোমরা স্থলবন্দরের কাস্টমস তত্ত্বাবধায়ক মহসিন হোসেন জানান, ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৭০-৮০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হয়। গত এক সপ্তাহে (৬-১৩ সেপ্টেম্বর) ৫৩৩টি ট্রাকে পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে ১২ হাজার ৪৩৭ মেট্রিক টন। তিনি আরও জানান, সোমবার থেকে ভারতীয় পেঁয়াজের ট্রাক বন্দর দিয়ে প্রবেশ করেনি। তবে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এ ধরনের কোনো কিছু তিনি জানেন না। এমনকি ভারতের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে কোনো কিছু জানানো হয়নি।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

যশোরের বেনাপোল বন্দরের বিপরীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল বন্দরে আটকে আছে পেঁয়াজবোঝাই পাঁচটি ট্রাক। প্রতিটি ট্রাকে ২৫ টন পেঁয়াজ রয়েছে। ওই ৫ ট্রাকে মোট ১২৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটিতে ৪২টি ওয়াগনযুক্ত ৩টি ট্রেন আটকা রয়েছে রানাঘাট রেলজংশনে। তিনটি ট্রেনে প্রায় পাঁচ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ রয়েছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গতকাল সোমবার সকালের দিকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৫০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ ঢুকেছিল। এর পরপরই দেশের সব কটি বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকদের সংগঠন।

পূর্বঘোষণা না দিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজ আমদানির জন্য ব্যবসায়ীদের অনেকেই এলসি করেছেন। ব্যবসায়ীদের অনেকেই বলছেন, ভারত সরকার অন্তত ১০ দিন হাতে রেখেই রপ্তানি বন্ধ করতে পারত। তাতে যাঁরা এলসি করেছেন, তাঁরা কিছুটা স্বস্তি পেতেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকেরা ১০ হাজার টনের মতো পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি করেছেন। ভারতীয় তিন শতাধিক ট্রাক পেঁয়াজ নিয়ে আটকে পড়েছে রাস্তায়। এসব পেঁয়াজ প্রবেশ করতে না পারলে সেগুলোতে পচন ধরবে। ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হবে। অন্তত এলসি করা পেঁয়াজগুলো আনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এ বিষয়ে হিলি স্থলবন্দর শুল্ক বিভাগের ডেপুটি কমিশনার সাইদুল আলম ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য আবু রায়হান আলি বিরুনীর বরাত দিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, কিছুদিন আগে তিনি হিলি স্থলবন্দর এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সেই সময় তিনি বলেছেন, গত বছরের মতো এবার দেশে পেঁয়াজের সংকটের আশঙ্কা নেই। কেননা, ভারতের বন্যা ও অতিবৃষ্টির বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। সেই জন্য ব্যবসায়ীদের মিসর, তুরস্ক ও বার্মা (মিয়ানমার) থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা এবং প্রতিনিধি, দিনাজপুরযশোর]

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন