বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গতকাল সোমবার সরেজমিন দেখা গেছে, নাকুগাঁও সীমান্তে দুই লেন সড়ক ঘেঁষে ভোগাই নদী ভারতের মেঘালয় থেকে বয়ে এসেছে। নদীর এক পাশে নাকুগাঁও স্থলবন্দরের অবকাঠামো, বিজিবি চেকপোস্ট ও নাকুগাঁও ইমিগ্রেশন কার্যালয় অবস্থিত। এর ৩০ থেকে ৬০ মিটার দূরে ৩০–৩৫টি শ্যালোমেশিনের মাধ্যমে নদী থেকে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। বালু তোলার কারণে নদী ভেঙে স্থলবন্দর এলাকার কিছু অংশ ধসে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নাকুগাঁও গ্রামের বালু ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী বলেন, বালু তোলার জন্য তিনি ইজারাদারকে প্রতি ১২ চাকার ট্রাকের জন্য ২ হাজার আর ৬ চাকার ট্রাকের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা করে দেন।

নয়াবিল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আমজাদ হোসেন বলেন, দুই লেন সড়ক, স্থলবন্দরের অবকাঠামো, ইমিগ্রেশন ও বিজিবি চেকপোস্ট ঘেঁষে ভোগাই নদীতে বড় গর্ত করে প্রায় এক মাস ধরে বালু তোলা হচ্ছে। এতে সরকারি এই স্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। দ্রুত এই বালু উত্তোলন বন্ধ করা প্রয়োজন।

জানতে চাইলে ভোগাই নদীতে বালু উত্তোলনের ইজারাদার জোবায়ের আহমেদ বলেন, নির্ধারিত সীমানার ভেতর থেকেই বালু তোলা হচ্ছে। এর বাইরে থেকে বালু তোলা হচ্ছে না।

default-image

নাকুগাঁও বন্দর কর্তৃপক্ষ, সওজ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ১৮ জুন নাকুগাঁওয়ে পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দরের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে স্থলবন্দর ঘিরে ১৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সাড়ে ১৩ একর জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে স্থলবন্দরের নানা স্থাপনা। এরপর ২০১৬ সালে সওজের উদ্যোগে সাড়ে ৩ কোটি টাকায় নাকুগাঁও শূন্যরেখা থেকে নকলা পর্যন্ত সাড়ে ২৯ কিলোমিটার দুই লেন সড়ক নির্মাণ করা হয়।

নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হেলেনা পারভীন প্রথম আলোকে বলেন, আইন অমান্য করে বালু তোলা যাবে না। এ নিয়ে বালু ব্যবসায়ীসহ ইজারাদারকে একাধিকবার বলা হয়েছে। দ্রুতই অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন