বিজ্ঞাপন

তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, সরকারি নির্দেশনার বাইরে কোনো ধরনের অতিরিক্ত ফি আদায় করার সুযোগ নেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর।

কলেজটির বেতন–সংক্রান্ত নোটিশে দেখা গেছে, স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের ছয় মাসের বেতন, ভর্তি, পুনঃ ভর্তিসহ ১৭টি খাতে মোট ১১ হাজার ৫৩৫ টাকা ফি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ছয় মাসের টিউশন ফি বাবদ ৪ হাজার ৮০০ টাকা ও রোবার স্কাউট ফি ধরা হয়েছে ৬৫ টাকা। অবশিষ্ট টাকা অতিরিক্ত আদায় করছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, কলেজটিতে চারটি সম্মান বিষয়ে আসনসংখ্যা রয়েছে ৩৩০। কিন্তু শিক্ষার্থী কিছুটা কম আছে। নোটিশটি দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণের জন্য ফি পরিশোধ করতে।

কলেজটির স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের তিনজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের বাবা বাস ও লেগুনাচালক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই দুই শিক্ষার্থী বলেন, দীর্ঘদিন তাঁদের বাবার গাড়ি বন্ধ ছিল। ফলে উপার্জনহীন হয়ে পড়েন তাঁদের অভিভাবক। এতে তাঁদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কলেজের অতিরিক্ত ফি পরিশোধ কীভাবে করবেন, সে প্রশ্ন করেন।

এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, কলেজের শিক্ষকদের বেতন দিতে হচ্ছে। পরিশোধ করতে হচ্ছে বিদ্যুৎ ও পানির বিল। তাই শিক্ষার্থীদের থেকে বেতন নিচ্ছেন। তা–ও আগের অধ্যক্ষ যেভাবে নিয়েছেন, ওই একই নিয়মে তিনি ফি আদায় করছেন। ছোটখাটো বিষয় না ধরে তাঁদের সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। তিনি মন্ত্রণালয়েও কথা বলবেন। যদি অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়ে থাকে, তা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান তিনি।

সীতাকুণ্ডের সাংসদ দিদারুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, সরকারি নির্দেশনার বাইরে এক টাকাও নেওয়ার সুযোগ নেই কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পেলে তিনি কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অতিরিক্ত ফি ফেরতের ব্যবস্থা করবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন