default-image

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ যখন মঞ্চে উঠলেন তখন ঘড়ির কাঁটা সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার ঘরে। ততক্ষণে ভরে গেছে বইমেলার মূল অনুষ্ঠানস্থল। জায়গা না হওয়ায় নানা স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে গেছেন শ্রোতাদের অনেকেই। পরের এক ঘণ্টা ধরে জায়গা থেকে নড়লেন না কেউ। মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনলেন এই অসাধারণ বক্তার কথা।

চট্টগ্রাম বইমেলা শেষ হওয়ার আগের দিন গতকাল বুধবার পাঠকের সঙ্গে আড্ডা দিতে এসেছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি শোনান তাঁর বড় হওয়ার গল্প। শ্রোতাদের মনে বুনে দেন ‘স্বপ্নের সমান বড় হওয়ার’ গল্প।

অনুষ্ঠানের সঞ্চালক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আদনান মান্নান শিক্ষার্থীদের হয়ে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের কাছে প্রশ্ন করেন, ‘আপনার বড় হওয়ার মাপকাটি কেনো স্বপ্ন হলো। কেনো আকাশ কিংবা নদী হলো না। সেগুলো তো আরও বড়?’ এর জবাবে তিনি বলেন, ‘আকাশ ও নদী তার বিকাশ ঘটিয়েই বড় হয়েছে। আর এগুলো প্রকৃতি জগতের দান। আমার বিকাশ আমাকেই করতে হবে। আমি যা স্বপ্ন দেখব, তাই আমার বিকাশ।’

ব্যক্তিগত জীবনে সাধারণ মানুষের সঙ্গতা উপভোগ করেন বলে মন্তব্য করেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি বলেন, মানুষের গায়ের গন্ধ, নৈকট্য, উষ্ণতা—এগুলোকে আমি বড় সম্পদ মনে করি।

default-image

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের কার্যালয় থেকে হেঁটে বাসায় ফেরার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি বলেন, বাসা আর অফিসের দূরত্ব ছিল ১৫–২০ মিনিটের পথ। আমি গভীর রাতেও অফিস থেকে বাসায় হেঁটে যেতাম। পথে পথে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে দেখা হয়ে যেত। কিন্তু তারা কখনো আমাকে আক্রমণ করেনি। উল্টো সালাম দিয়ে সরে যেত।

মানুষের সঙ্গবদ্ধতাকে ভালোবাসেন বলে জানান আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। তিনি বলেন, ‘এ জন্য আমি ফেসবুকে যাই না। কারণ সেখানে মানুষ নেই। আছে মানুষের ছায়া।’

যার জীবন একক হয়, তার মৃত্যুও একা হয় বলে মন্তব্য করেন এই বরেণ্য শিক্ষাবিদ। তিনি বলেন, যে মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, সে মানুষ একা হয়ে গেছে। মানুষ টিকে আছে একে অপরের প্রতি ভালোবেসে।

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদকে কাছে পেয়ে নানা বয়সী মানুষ তাঁকে প্রশ্ন করেন। তিনি সেগুলোর উত্তর দেন।

আজ বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে বইমেলা। বিষাদের সুর তাই গুণগুণ করছিল গতকাল থেকেই। বইপ্রেমীরা শেষবারের মতো কিনে নিচ্ছেন পছন্দের বই। তাই অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকালও ভিড় ছিল যথারীতি বেশি।

এদিকে গতকাল বইমেলায় ছিল প্রচুর ভিড়। শেষ দিকে এসে মানুষ কিনছিল পছন্দের বইগুলো। প্রথমা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী ইব্রাহীম তানভীর জানান, গতকাল বুধবার তাঁদের প্রায় ২৫০টি বই বিক্রি হয়। খড়িমাটি প্রকাশনার কর্ণধার কবি মনিরুল মুনির জানান, ‘শেষ দিকে এসে পাঠকদের সাড়ায় অভিভূত হয়েছি। এবারের বইমেলা প্রেরণার মেলা।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন